যারা গণহত্যা চালিয়ে এখনো দুঃখ প্রকাশ করে নাই, অনুশোচনা করে নাই, অনুতপ্ত নয়, যারা গণঅভ্যুত্থানের মুখে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে, যাদের নিজেদের আপন ঠিকানা দিল্লিতে বসে আছে- বাংলাদেশের মানুষ এ গণহত্যাকারীদের এদেশে আর রাজনীতি করতে দেবে না।
৬ নভেম্বর দুপুরে চট্টগ্রামের ফটিককছড়ির ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আল জামিয়াতুল ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসার দুই দিনব্যাপী বার্ষিক মাহফিলের শেষ দিনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ এমপি এসব কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, শাপলা চত্বরে যারা শহীদ হয়েছেন, তাদের নাম ঠিকানা আমরা এখনো জানি না, কবরের ঠিকানা জানি না। এত রক্তের মধ্য দিয়ে, রক্তের সিঁড়ি নেয়ে আমরা ইসলাম বিদ্বেষী ফ্যাসিস্ট সরকারের হাত থেকে মুক্ত হয়েছি। শুধু জুলাই- আগস্টে গণঅভ্যুত্থানের সময় জাতিসংঘের হিসাব মতে ১৪০০ মানুষকে শহীদ হতে হয়েছে।
তার আগে বিগত ১৬-১৭ বছরে ফ্যাসিস্টদের সময়ে প্রায় ৩ হাজার মানুষকে গুমের শিকার হতে হয়েছে। আমিও তার মধ্যে একজন ছিলাম। আল্লাহর রহমত ও আপনাদের দোয়ায় আমি এখনো জীবিত আছি। আমরা কি আবার সে ফ্যাসিস্টদের পূনঃআগমন চাই? তাদের প্রত্যাবর্তন চাই?
তাহলে সে ক্ষেত্র আজ কারা তৈরি করছে ? এই যে গার্মেন্টসে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে, এখানেও ফ্যাসিস্টদের হাত আছে।
তিনি বলেন, যারা ইসলামের নাম বিক্রি করে রাজনীতি করছে অথচ তাদের নির্বাচনী ম্যানুফ্যাস্টুতে ইসলামের ধারে কাছেরও কিছু নেই। যারা ইসলামী দল বলে নিজেদের ঘোষণা করছে, তারা মুখে এক কথা বলে কিন্তু তাদের দালিলিক প্রমাণ তা বলে না। তাঁরা কখনো তাদের ইশতেহারে বলে নাই তারা ইসলামী শাসন চায়, তাঁরা কখনো বলে নাই তারা এই দেশে শরিয়া ভিত্তিক আইন চালু করতে চায়। বরং তাঁরা শরিয়া ভিত্তিক আইনের বিপক্ষে।
আমরা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জাতীয়তাবাদী ইসলামী মূল্যবোধের রাজনীতি প্রকাশ করেছি। আমরা এদেশের সব জনগোষ্ঠীকে নিয়ে একটা ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশের সৃজন করেছি। যেখানে আমাদের সবারই একটা জাতীয় পরিচয় আছে। এদেশে আমরা কখনো জাতির মধ্যে বিভেদ রাখতে চাই না। যারা ধর্মের নাম বিক্রি করে রাজনীতি করছে, তাদের কার্যকলাপে ধর্মীয় প্রতিফলন নাই।
হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির শাহ্ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বার্ষিক মাহফিলে আরো উপস্থিত ছিলেন, ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শামীম কায়সার লিংকন, স্থানীয় সংসদ সদস্য সরোয়ার আলমগীর এমপি, সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী এমপি ও সংসদ সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী এমপি উপস্থিত ছিলেন।
এমএইচ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

