কুমিল্লার কোতয়ালি থানা পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা তুলে নিতে চাপ দেয়ার অভিযোগ করেছেন কুমিল্লার মির হোসেন ও বোন সখী ।
মঙ্গলবার কুমিল্লা কান্দিরপাড়ের একটি মিলনায়তনে মা-বাবার সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হয়ে প্রবাসী মির হোসেন ও বোন সখী সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আইনি সহায়তা ও প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে ওই ভুক্তভোগীরা পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন এবং নিজের ওপর চলা নির্যাতন, প্রতারণা ও সম্পত্তি দখলের অভিযোগ তুলে ধরেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে মির হোসেন জানান, তিনি নগরীর চক বাজার কাসারিপট্টি এলাকার বাসিন্দা। ১২ বছর ধরে বিদেশে শ্রম দিয়ে উপার্জিত অর্থ প্রতি মাসে দেশে মায়ের কাছে পাঠিয়েছেন। পরিবারের দায়িত্ব পালন, ভাইদের পড়াশোনা ও খরচ নির্বাহ করেছেন। কিন্তু পরিবারের সদস্যরা বিদেশে থাকাকালীন সময়ে তাকে সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিলেন বলে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়।
মির হোসেন অভিযোগ করেন, তার ভাই কামরুল হাসান কাজলসহ কুচক্রী মহল তার সম্পত্তি দখলের জন্য বিভিন্ন সময় হামলা, হুমকি, গালিগালাজ ও হত্যার চেষ্টায় লিপ্ত হয়েছেন। সম্প্রতি তিনি দেশে ফিরে নিজ প্রাপ্ত সম্পত্তি পরিদর্শনে গেলে তাকে হামলা করা হয়।
তিনি আরও বলেন, আমি পুলিশ প্রশাসন, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং সেনাবাহিনীর শরণাপন্ন হয়েও কোনো সমাধান পাইনি।’
প্রবাসী মির হোসেন জানান, তার নামে রেজিস্ট্রিকৃত বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও তাকে দখলে যেতে বাধা দেয়া হচ্ছে।
তার অভিযোগ, ‘সম্পত্তির দলিল বাতিলের নামে যে মামলা দায়ের করা হয়েছে, সেখানে তার স্বাক্ষর নকল করে আদালতে আপোসনামা দাখিল করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও জালিয়াতির মাধ্যমে সংঘটিত হয়েছে। আমি এখন আমার স্ত্রী, সন্তান নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতেছি।’
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মির হোসেনের একমাত্র বোন সখী। তিনি বলেন, ‘আমার ভাই কামরুল, সাদ্দাম ও দেলোয়ার আমাকে ঠকিয়েছে। আমি পড়াশুনা জানি না। আমাকে ভুল বুঝিয়ে আমার স্বাক্ষর নিয়ে আমার জায়গা নিয়ে নিয়ে গেছে। দলিল করছে, যা আমি জানিও না। তারা আমাকে ঠকিয়েছে। আমি প্রশাসনের কাছে বিচার চাই।
এই বিষয়ে কুমিল্লা কোতোয়ালি থানায় অভিযোগ ও কুমিল্লার আদালতে মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী মীর হোসেন। তবে, থানা থেকে অভিযোগ তুলে নেয়ারও চাপ দেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযোগের তদন্ত কর্মকর্তা কুমিল্লা কোতোয়ালি থানার উপ-পরিদর্শক জহিরুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ তুলে নিতে চাপ দেয়ার কোনো প্রশ্নই আসে না। আমরা অভিযোগটির তদন্ত করছি। তদন্ত শেষে প্রতিবেদন জমা দেয়া হবে।
এমএস
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

