বাঁশখালীর প্রমত্তা শঙ্খনদী মুহূর্তেই গিলে খেল চারটি বসতঘর

উপজেলা প্রতিনিধি, বাঁশখালী (চট্টগ্রাম)

বাঁশখালীর প্রমত্তা শঙ্খনদী মুহূর্তেই গিলে খেল চারটি বসতঘর
ছবি: আমার দেশ

বাঁশখালীর শঙ্খ নদীর ভাঙনে দিশাহারা হয়ে পড়েছেন পুকুরিয়া তেচ্ছি পাড়ার বাসিন্দারা।

বুধবার সকাল ৭টায় শঙ্খনদী মুহূর্তেই গিলে খেয়েছে নুরুল কবির, রুহুল কবির, আজিজুল হক ও রশিদ আহমদের চারটি বসতঘর। ওই চার পরিবার দীর্ঘদিন ধরে শঙ্খ নদীর তীরেই বসবাস করে আসছিল।

বিজ্ঞাপন

শঙ্খ নদীর করালগ্রাসে ঘরবাড়ি হারানো রশিদ আহমদ বলেন, মঙ্গলবার রাতেও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঘরে রাত যাপন করেছি, বুধবার সকাল ৭টার দিকে হঠাৎ নদী ভাঙন শুরু হলে আমরা তাড়াহুড়ো করে কিছু মাল সামান উদ্ধারের চেষ্টা করি, কিন্তু ততক্ষণে পুরো ঘর মালামালসহ শঙ্খ নদীতে বিলীন হয়ে যায়।

একই কথা অন্য তিনজনেরও। তাদের মাথা গোঁজার একমাত্র ঠাঁই হারিয়ে এখন তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছে। তাদের মাথার উপর যেন আসমান ভেঙে পড়েছে। পরিবারপরিজন নিয়ে এখন কোথায় যাবেন তারা, তার হিসেব মিলাতে পারছেন না ওই চার পরিবার।

যে কোনো সময় আরও ৩০ পরিবারের বসতভিটা নদীতে বিলীন হয়ে যেতে পারে বলে জানান স্থানীয় ইউপি সদস্য ফরিদ আহমেদ। তিনি বলেন, যেভাবে শঙ্খ নদী রৌদ্রমূর্তি ধারণ করেছে, তা শঙ্খ নদীর তীরে অবস্থিত মানুষের জন্য বড়ো ধরনের একটি অশনিসংকেত। অবিলম্বে এ ভাঙন রোধ করতে হবে।

এখনে দুশ্চিন্তায় নির্ঘুম রাত কাটছে শঙ্খ নদী পাড়ের বহু পরিবার।

এদিকে ভাঙনের খবর পেয়ে স্থানীয় চেয়ারম্যান আসহাব উদ্দিন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের লোকজন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। চেয়ারম্যান আসহাব উদ্দিন বলেন, শঙ্খ নদীর ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে, আজকে চারটি পরিবারের ঘর সাগরে বিলীন হয়ে গেছে,তাদের আর কোথাও মাথা গুজার ঠাঁই নেই।

তিনি সরকারকে দ্রুত তাদের পুনর্বাসন ও শঙ্খ নদীর ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহনের দাবি জানান। পরিদর্শনে আসা পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা অনুপম পাল বলেন, আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি, ভাঙন রোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেব।

এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ একটি মহল দীর্ঘদিন ধরে শঙ্খ নদী থেকে বালু উত্তোলন করায়, শঙ্খ নদীর গভীরতা বৃদ্ধি পেয়ে এখন বাঁধ ভেঙে যাচ্ছে এমন মন্তব্য স্থানীয় বাসিন্দাদের।

এমএইচ

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন