চট্টগ্রাম নগরীর জিইনি মোড় থেকে দেওয়ানহাট পর্যন্ত সব ধরনের সভা-সমাবেশ, মিটিং ও মিছিলে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে চট্রগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)। সোমবার সকালে সিএমপি কমিশনার হাসান মোহাম্মদ শওকত আলীর সই করা গণবিজ্ঞপ্তিতে এ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।
এর আগে, রোববার রাতে নগরীর লালখানবাজার থেকে দেওয়ানহাট পর্যন্ত শহীদ ওয়াসিম আক্তার ফ্লাইওভারের নিচের প্লারে নতুন রং করে বিজ্ঞাপনের জন্য নোটিশ টানানোকে কেন্দ্র করে উত্তজনা ছড়িয়ে পড়ে চট্টগ্রামে। গভীর রাত পর্যন্ত বিএনপি ও এনসিপি নোতাকর্মীরা অবস্থান নিয়ে পাল্টাপাল্টি স্লোগান দিতে থাকে।
এনসিপির দাবি প্লারগুলোতে জুলাই আন্দোলনের গ্রাফিতি আঁকা ছিল। কিন্তু সিটি কর্পোরেশন সেগুলো মুছে বাণিজ্যিক বিজ্ঞাপনের জন্য ভাড়া দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে রোববার রাত ৮টা থেকে নগর ভবনের সামনে বিক্ষোভ করতে থাকে তারা। একপর্যায়ে রাস্তা বন্ধ করে নতুন গ্রাফিতি আঁকা শুরু করে এনসিপি।
যার নেতৃত্ব দেন এনসিপির সদস্য সচিব আরিফ মাঈনুদ্দিন। রাত সাড়ে ১০ টার দিকে সেখানে জড়ো হতে থাকেন ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপির নেতাকর্মীরা। তারা রাস্তার ব্যারিকেড তুলে দেয়ার চেষ্টা করলে এনসিপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে বাক বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। দুই পক্ষ পাল্টাপাল্টি অবস্থান নিয়ে একে অন্যের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকেন। পরিস্থিতি অবনতি হওয়ার আশংকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয় নগর ভবন এলাকায়। রাত ১২টার দিকে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন এসে বিএনপি নেতাকর্মীদের সরিয়ে নিয়ে যান।
সোমবার সকাল থেকে ফ্লাইওভারের প্লারগুলোতে ছাত্রদল যুবদলের নেতাকর্মীরা নতুন করে জুলাই আন্দোলনের গ্রাফিতি আঁকবে বলে ঘোষণা দেন তিনি। একই সময় বিএনপির গ্রাফিতি আঁকা কর্মসূচি প্রতিরোধ করার ঘোষণা দেয় এনসিপি।
এনসিপির চট্টগ্রাম মহানগরের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক রিদোয়ান হৃদয় জানান, সোমবার শহরের সব দেয়ালে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের গ্রাফিতি অংকন কর্মসূচি ছিল আমাদের। কিন্তু যেহেতু সিএমপি নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে সেহেতু আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে সকল কর্মসূচি স্থগিত করেছি। তবে বিএনপির নেতাকর্মীরা ১৪৪ বা ভঙ্গ করে সিটি কর্পোরেশন এলাকা শোডাউন করেছে। ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করা বিএনপি কর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সিএমপি কমিশনারের প্রতি আহবান জানান তিনি।
জেডএম
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

