কুমিল্লায় নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মানছেন না ভবন মালিকরা

কুমিল্লায় নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মানছেন না ভবন মালিকরা

কুমিল্লা মহানগরীতে এক সমীক্ষায় দেখা গেছে নির্মাণ অধ্যাদেশ না মেনে প্রায় ৯০ শতাংশ ভবনই নির্মাণ করা হয়েছে। নগরীর পুরোনো সদর পৌরসভা অংশের অধিকাংশ জায়গা বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। তবে প্রথমে নগর প্রশাসক ও পরবর্তী সময়ে চলতি বছরের মাঝামাঝি কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ প্রতিষ্ঠার পর নকশাবহির্ভূত ও আইন অমান্য করে ভবন নির্মাণের বিরুদ্ধে কঠোরব্যবস্থা নেওয়া শুরু করে। এরই জেরে সম্প্রতি নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ২৩টি বহুতল ভবনের নির্মাণকাজ বন্ধ করে দিয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, নগর কর্তৃপক্ষ নিষেধাজ্ঞা দিলেও কোনোভাবেই নির্মাণকাজ বন্ধ রাখতে পারছে না। প্রভাবশালী ডেভেলপার কোম্পানির সঙ্গে রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়া জমির মালিকপক্ষ একজোট হয়ে সেই নির্দেশনা না মেনে চালিয়ে যাচ্ছে নির্মাণকাজ।

জানা যায়, রাজনৈতিক প্রভাবে থাকা সিটি মেয়র, কাউন্সিলররা সিটি করপোরেশনের দুর্নীতিপরায়ণ প্রকৌশলী, সার্ভেয়ারসহ অসাদু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগসাজশে নিয়মবহির্ভূতভাবে বহুতল ভবন নির্মাণের অনুমোদন দিয়েছে। যার কারণে ধর্মসাগর পশ্চিমপাড়, বাগিচাগাঁও, নতুন ও পুরাতন চৌধুরীপাড়া, ফয়জুন্নেছা স্কুল রোড, ডাক্তারপাড়া, নজরুল অ্যাভিনিউ সড়ক, সরকারি মাহিলা কলেজ রোড, ঠাকুরপাড়া, সদর হাসপাতাল রোড এলাকাগুলোতে সরু রাস্তার বিপরীতে ড্রেনেজব্যবস্থা নাজুক হয়ে পড়েছে। পয়ঃনিষ্কাশনের পানি স্বাভাবিকভাবে নিষ্কাশন হতে পারছে না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দায়িত্বশীল সিটি করপোরেশনের একাধিক সূত্র আরো জানায়, বিগত ৫ আগস্ট ২০২৪ সালে সিটি মেয়রসহ কাউন্সিলররা গ্রেপ্তার আতঙ্কে পালিয়ে যায়। সে সময় সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলীসহ সার্ভেয়ারদের একটি সিন্ডিকেটের যোগসাজশে ডেভেলপার ও জমির মালিকপক্ষ অনেক বহুতল ভবন নির্মাণ শুরু করে শুধু আবেদন করেই।

বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সময়ে সরকার কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ মোল্লা টিপুকে সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নিয়োগ করলে তিনি দায়িত্ব নিয়েই অবৈধ স্থাপনাগুলো নিয়ন্ত্রণে হাত দেন। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে নতুন করে নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠিত হলে দায়িত্ব নিয়ে কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সভাপতি ও নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান উৎবাতুল বারী আবু সাঁড়াশি অভিযান শুরু করে। যার পরিপ্রেক্ষিতে শুধু সেপ্টেম্বর মাসেই ২৩টি ভবনের নির্মাণকাজ বন্ধ ঘোষণা করে। কিন্তু কোনোভাবেই নির্দেশনা মানছেন না ডেভেলপার বা ভবন মালিকরা।

নির্দেশনার পরও কীভাবে ভবনের কার্যক্রম চলছে বিষয়টি জানতে চাইলে কুমিল্লা নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান উৎবাতুল বারী আবু বলেন, আমরা দায়িত্ব নিয়েছি অল্প কিছুদিন হলো। নেই পর্যাপ্ত জনবল। তবুও নগরীর উন্নয়নের কথা চিন্তা করে বেশ কয়েকটি বহুতল ভবনে নির্মাণকাজে ত্রুটি বা অনুমোদন না থাকায় সাময়িকভাবে তাদের নির্মাণকাজ বন্ধ করে দিই। সে সঙ্গে তাদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আমাদের কাছে জমা দেওয়ার জন্য মৌখিক নির্দেশনার পাশাপাশি ডাকযোগে চিঠি প্রেরণ করি। অনেকেই চিঠি গ্রহণ না করায় সেগুলো ফেরত এসেছে। আইন অনুযায়ী তিনবার চিঠি প্রেরণের নিয়ম থাকায় আমরা আপাতত সেটাই করছি। পরবর্তী সময়ে আমরা আইনি সহায়তা নিয়ে ভবনগুলোর অবৈধ অংশসমূহ ভেঙে ফেলব।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন