আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

ভিডিও ভাইরাল

ফটিকছড়ি উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিসার ও প্রধান শিক্ষকের হাতাহাতি

উপজেলা প্রতিনিধি, ফটিকছড়ি (চট্টগ্রাম)

ফটিকছড়ি উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিসার  ও প্রধান শিক্ষকের হাতাহাতি
ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে বেতনসংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিসার ও ফটিকছড়ি করোনেশান সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের মধ্যে হাতাহাতি ও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটেছে। এ-সংক্রান্ত একটি ভিডিও সমাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রচারিত হলে উপজেলাজুড়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) দুপুরে ফটিকছড়ি উপজেলা পরিষদের হিসাবরক্ষণ অফিসারের কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। সরকারি অফিসে দুই দায়িত্বশীল ব্যক্তির এমন আচরণে পুরো উপজেলাজুড়ে ব্যাপক তোলপাড় ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার দুপুরে ফটিকছড়ি করোনেশন সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মুহাম্মদ জসিম উদ্দীন তার বেতনসংক্রান্ত জটিলতা নিরসনের জন্য উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা এ কে এম নজরুল ইসলামের কার্যালয়ে যান।

সেখানে বিষয়টি নিয়ে কথা বলার একপর্যায়ে উভয়ের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়। পরে দুজন হাতাহাতি ও ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়েন।

অফিসের ভেতরে এমন হট্টগোল ও মারামারির খবর পেয়ে ছুটে আসেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মুহাম্মদ ইব্রাহিম। খবর পেয়ে ফটিকছড়ি থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ফোর্স ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন।

প্রকাশ্যে সরকারি দপ্তরের ভেতরে একজন অফিসার ও শিক্ষকের এমন আচরণের খবর বাইরে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফটিকছড়ি করোনেশন সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মুহাম্মদ জসিম উদ্দীন বলেন, ‘মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা রয়েছে, আমরা যারা মবের শিকার হয়ে কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলাম, তাদের বেতন-ভাতা বন্ধ করা যাবে না।’

আমি বেতনসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে হিসাবরক্ষণ অফিসারের কাছে গেলে তিনি আমাকে নানাভাবে হয়রানি করেন এবং অফিস থেকে বের হয়ে যেতে বলেন। এটি কোনো সরকারি অফিসারের আচরণ হতে পারে না।

উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিসার এ কে এম নজরুল ইসলাম বলেন, প্রধান শিক্ষক জসিম উদ্দিন দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। এ বিষয়ে প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক লিখিতভাবে অত্র অফিসে অবহিত করেন। তারই নিরিখে আমি তাকে বলছি, ছুটি মঞ্জুর করে নিয়ে আসতে। তিনি তা না করে অফিসে এসে সরকারি নথিপত্র নষ্ট করে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন। বিষয়টি আমি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সাঈদ মুহাম্মদ ইব্রাহীম বলেন, এটি একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। ভুল বুঝাবুঝি থেকে এ অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটেছে। আপাতত আমরা বসে বিষয়টির প্রাথমিক সমাধান করেছি। তবে পরবর্তীতে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...