কুমিল্লায় রাষ্ট্রীয় সম্মান ছাড়াই বীর মুক্তিযোদ্ধার দাফন নিয়ে প্রশাসনের অবহেলায় সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তবে এঘটনায় ইউএনও বলছেন সন্ধ্যার পর গার্ড অব অনার দেওয়ার নিয়ম নেই ।
একাত্তরের রণাঙ্গনে যিনি বুকের তাজা রক্ত ঢেলে ছিনিয়ে এনেছিলেন স্বাধীন মানচিত্র, মৃত্যুর পরে সেই বীর মুক্তিযোদ্ধার কপালে জুটেছে কেবল প্রশাসনিক উদাসীনতা আর নিদারুণ অবহেলা। জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করা এই বীর সেনানিকে শেষ বিদায়ে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা বা ‘গার্ড অব অনার’ না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা প্রশাসনের বিরুদ্ধে। রাষ্ট্রীয় সম্মান ছাড়াই দাফন সম্পন্ন হওয়ায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। এ ঘটনায় কুমিল্লাজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা।
নিহত বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তার (৭৮) দীর্ঘ কর্মজীবনে যোগাযোগ ও আইন মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে দায়িত্ব পালন করেছেন। বার্ধক্যের শেষ দিনগুলো তিনি ঢাকায় ছেলের কাছে কাটিয়েছিলেন।
বৃহস্পতিবার ঢাকার মাটিতেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। ওই দিনই ঢাকায় প্রথম জানাজা শেষে তার লাশ ব্রাহ্মণপাড়ার মহালক্ষীপাড়া গ্রামে আনা হয়। বাড়িতে পৌঁছাতে পৌঁছাতে সাড়ে পাঁচটা বেজে যায়। দীর্ঘ অপেক্ষার পরও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া মেলেনি। পরে বীর মুক্তিযোদ্ধাকে রাষ্ট্রীয়ভাবে গার্ড অব অনার প্রদান করা ছাড়াই দাফন করা হয়।
তার ভাই শাহজাহান আক্ষেপ করে বলেন, ‘আমরা লজ্জিত—যে মানুষটি ৯ মাস অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করে এই দেশকে স্বাধীন করল, সে তার প্রাপ্য সম্মানটুকুও পেল না’
স্থানীয় মহালক্ষীপাড়া গ্রামের আরেক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তার মোল্লা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘বিষয়টি অত্যন্ত বেদনাদায়ক। সন্ধ্যার পর গার্ড অব অনার দেওয়া না গেলেও অন্তত প্রশাসনের লোক এসে শেষ শ্রদ্ধা জানিয়ে যেতে পারত, কিন্তু তাও করা হয়নি। একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সহযোদ্ধার এমন অমর্যাদা সহ্য করার মতো নয়।’
ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ইদ্রিস মিয়া মাস্টার জানান, প্রশাসনের সঙ্গে তারা সার্বক্ষণিক যোগাযোগ করে গার্ড অব অনার ও সশস্ত্র সালামের অনুরোধ জানিয়েছিলেন। কিন্তু ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুন্নী ইসলামের সাফাই—‘সন্ধ্যার পর নাকি গার্ড অব অনার দেওয়া যায় না।’
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জহিরুল হক বলেন, ‘আমি মরহুমের জানাজায় উপস্থিত ছিলাম। তাকে গার্ড অব অনার না দেওয়ায় পুরো এলাকায় তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক।’
এদিকে ব্রাহ্মণপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফারুক হোসেন জানান, ‘আমরা গার্ড অব অনারের জন্য পুলিশ পাঠিয়েছিলাম এবং পুলিশ লাইন থেকেও দল এসেছিল। তবে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কেউ উপস্থিত না থাকায় পুলিশ একা গার্ড অব অনার দিতে পারেনি। পরে তারা জানাজায় অংশ নিয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুন্নী ইসলাম বলেন, ‘সন্ধ্যার পর সাধারণত গার্ড অব অনার দেওয়া হয় না। তারপরও আমরা প্রস্তুতি নিয়েছিলাম, কিন্তু ঢাকা থেকে লাশ আনা নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা ছিল। মাগরিবের পর কেউ আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেনি, তাই সম্ভব হয়নি।’
এমই
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

