ফেনীর ছাগলনাইয়ায় সম্পত্তির লোভে নিজের জন্মদাতা পিতাকে অস্ত্র দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে মাদকাসক্ত ও বখাটে দুই ছেলের বিরুদ্ধে। বর্তমানে কারান্তরীণ বাবার মুক্তির আকুতি জানিয়ে এবং বখাটে সন্তানদের প্রাণনাশের ভয়ে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন অসহায় মা ও অন্য সদস্যরা। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার মহামায়া ইউনিয়নের পশ্চিম দেবপুর গ্রামে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী ওবায়দুল হক মজুমদার উপজেলার মনুরহাট বাজারের একজন ব্যবসায়ী। তার দুই ছেলে রুবেল ও শিবলু মাদকাসক্ত এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত। সম্পত্তির ভাগ না পেয়ে কিছুদিন আগে তারা তাদের বাবা-মাকে বেদম মারধর এবং ঘরবাড়িতে ভাঙচুর চালায়। ওই ঘটনায় ওবায়দুল হক থানায় মামলা করলে পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে। পরবর্তীতে বাবার জিম্মায় জেল থেকে জামিনে বেরিয়ে এসে রুবেল মামলা প্রত্যাহারের জন্য চাপ দিতে থাকে। এতে ব্যর্থ হয়ে সে পিতাকে ‘দেখে নেওয়ার’ হুমকি দিয়ে আত্মগোপন করে।
গত মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রাত ১২টার দিকে র্যাবের একটি দল ওবায়দুল হকের বাড়িতে তল্লাশি চালায়। একপর্যায়ে পাশের নির্মাণাধীন একটি ঘরের বাথরুমের ছাদ থেকে একটি অস্ত্র উদ্ধার করা হয় এবং ওবায়দুল হককে আটক করে নিয়ে যাওয়া হয়।
অভিযুক্তের মা সাজেদা বেগম কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, ‘আমার মাদকাসক্ত ছেলেই পূর্ব আক্রোশের জেরে অস্ত্রটি সেখানে রেখে তার বাবাকে ফাঁসিয়েছে। রুবেল ও শিবলুর বিরুদ্ধে থানায় ৮-৯টি মামলা রয়েছে। আমরা এখন তাদের ভয়ে বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছি।’
ওবায়দুল হকের ছোট ছেলে আরিফুল হক মজুমদার এবং তিন বোন ফারজানা, মোমেনা ও সাহানাজ জানান, পিতাকে জেলহাজতে পাঠানোর পরপরই রুবেল ও শিবলু তাদের বাবার মালিকানাধীন ‘আরিফ এন্টারপ্রাইজ’ লুটপাট করে। দোকানের মালামাল সরিয়ে তারা সেখানে ‘রুবেল ট্রেডার্স’ নামে নতুন সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দিয়েছে।
এ বিষয়ে র্যাবের পুলিশ পরিদর্শক মো. ফখরুদ্দিন আজাদ মোল্লা জানান, সোর্সের তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে অস্ত্রটি উদ্ধার করা হয়েছে। তবে ছেলে কর্তৃক বাবাকে ফাঁসানোর বিষয়টি তার জানা নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ছাগলনাইয়া থানার এসআই তানভীর মেহেদী জানান, এ ঘটনায় নিয়মিত মামলা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
অসহায় মা সাজেদা বেগম এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও তাঁর নির্দোষ স্বামীর মুক্তি দাবি করেছেন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

