আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

চট্টগ্রামে গ্যাসলাইনে বিস্ফোরণ নিহত তিন জনের বাড়ি শোকের মাতম

জেলা প্রতিনিধি, কুমিল্লা

চট্টগ্রামে গ্যাসলাইনে বিস্ফোরণ নিহত তিন জনের বাড়ি শোকের মাতম

চট্টগ্রামের হালিশহরের একটি বাসায় গ্যাস বিস্ফোরণে দগ্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করা তিনজনের বাড়ি কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার বাগমাড়া গ্রামে চলছে শোকের মাতম। পরিবারের ৯ জন অগ্নিদগ্ধ হবার পর তিনজন ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। বাকি ৬ জন এখনো চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন ।

নিহত শাওনের মা নূর জাহান আক্তার রানী মরদেহ মঙ্গলবার দুপুরে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। নিহত সামির ও শাওনের মরদেহ মঙ্গলবার রাতে কুমিল্লা বরুড়ার বাগমাড়া গ্রামে আসার কথা রয়েছে। বুধবার সকাল নয়টায় তাদের জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে সামির আহমেদ মারা গেছেন বলে ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক শাওন বিন রহমান গণমাধ্যমকে জানান। তার বয়স ৪০ বছর। সামিরের শরীরের ৪৫ শতাংশই পুড়ে যায়। তাকে গতকাল সোমবার জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়।

নিহত সামিরের বন্ধু শওকত হোসেন জানান, আমাদের বন্ধু সুমন(সামির) দুনিয়ার সংক্ষিপ্ত সফর শেষ করেছেন। চট্টগ্রামে ভাড়া বাসায় এক অনাকাঙ্ক্ষিত অগ্নিকান্ডে পরিবারের ৯জন সদস্য সহ অগ্নিদগ্ধ হয় এবং গুরুতর অবস্থায় ঢাকা নেয়ার পথে সুমন এর বড় ভাইয়ের স্ত্রী মারা যায়। মঙ্গলবার সকালে তার ভাতিজা শাওন মারা যায়, মা ছেলের পর বন্ধু সুমন(সামির) আজ দুপরে মারা যায় । একটার পর একটা মৃত্যুর খবরে আমরা দিশেহারা।

এর আগে সোমবার সকাল ৭টার দিকে বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইন্সটিটিউটে চিকিৎসাধীন ১৬ বছর বয়সি কিশোর শাওন মারা যায়। মারা যাওয়া সামির সম্পর্কে শাওনের চাচা। তার আগে গত সোমবার সন্ধ্যায় শাওনের মা নূর জাহান আক্তার রানী (৪০) মারা যান।

জানা যায়, সোমবার গ্যাস বিস্ফোরণের ঘটনায় দগ্ধ ৯ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া হয়। বর্তমানে ছয়জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

উল্লেখ্য, গতকাল সোমবার ভোর সাড়ে ৪টায় (সেহেরির সময়) হালিশহর এইচ ব্লকের ‘হালিমা মঞ্জিল’ নামের ছয়তলা ভবনের তৃতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটে বিকট শব্দে বিস্ফোরণের পরপরই আগুন ধরে যায়। তারপর শরীরে আগুন নিয়ে ঘর থেকে একে একে সবাই বের হয়ে আসেন বলে প্রতিবেশীরা জানিয়েছিলেন। দুর্ঘটনায় একই পরিবারের তিন শিশুসহ ৯ জন দগ্ধ হন; তারা সে সময় সেহরি করছিলেন।

নিহত নূর জাহান আক্তার রানী, শাওন, সামির ছাড়া দগ্ধ বাকিরা হলেন— রানীর স্বামী সাখাওয়াত (৪৬), তার আরেক সন্তান উম্মে আইমান স্নিগ্ধা (১০), সামিরের স্ত্রী আশুরা আক্তার পাখি (৩০), তাদের দুই সন্তান আয়েশা (৪) ও ফারহান আহমেদ আনাছ (৬) শিপন হোসাইন (৩১)।

দুর্ঘটনার পরপর প্রথমে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সবার অবস্থাই ‘আশঙ্কাজনক’ বলে বার্ন ইউনিটের চিকিৎসকেরা তাদের ঢাকায় রেফার করা হয়েছিল।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন