সকাল ৯টায়ও তালাবদ্ধ চিকিৎসকের কক্ষ, চরম ভোগান্তিতে রোগীরা

সকাল ৯টায়ও তালাবদ্ধ চিকিৎসকের কক্ষ, চরম ভোগান্তিতে রোগীরা
চিকিৎসকের দরজা বন্ধ কক্ষের সামনে অপেক্ষমান রোগীরা

অসুস্থ শরীর নিয়ে হাসপাতালে এসে টিকিট কাটার পরও চিকিৎসকের অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে রোগীদের। নির্ধারিত সময়ে চিকিৎসক না পাওয়া, বন্ধ কক্ষের সামনে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা এবং জরুরি বিভাগে সেবা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সব মিলিয়ে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসাসেবা ও তদারকি নিয়ে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এদিকে কক্ষ বন্ধ রাখা ও দায়িত্ব পালনে অবহেলার অভিযোগে দুই কর্মকর্তা-কর্মচারীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে চট্টগ্রাম সিভিল সার্জনকে নির্দেশ দিয়েছেন বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. ফজলে রাব্বি।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার পর এনসিডি (অসংক্রামক রোগ), ডেন্টাল ও চক্ষু বিভাগের কয়েকটি কক্ষ বন্ধ থাকার অভিযোগ করেন রোগীরা। তাদের অভিযোগ, নিয়ম অনুযায়ী টিকিট কেটে সংশ্লিষ্ট বিভাগে গেলেও তারা চিকিৎসক পাননি। এনসিডি কর্নারের সামনে অপেক্ষমাণ কয়েকজনের দাবি, সকাল ১০টার আগে চিকিৎসকদের দেখা মেলে না। শিবপুর থেকে ডায়াবেটিস পরীক্ষা করাতে আসা এক প্রবীণ রোগী জানান, প্রায় আধা ঘণ্টা অপেক্ষা করেও তিনি চিকিৎসকের দেখা পাননি এবং কখন চিকিৎসক আসবেন, সে তথ্যও তাকে জানানো হয়নি। সৈয়দপুর থেকে আসা এক নারী রোগীও চিকিৎসক ও মেডিকেল টিমের দেরিতে উপস্থিতির অভিযোগ করেন।

সরেজমিনে ধারণ করা কয়েকটি ভিডিওচিত্রে সকাল ৯টার পর কয়েকটি কক্ষ বন্ধ এবং আলো-ফ্যান বন্ধ থাকার দৃশ্য দেখা গেছে বলে দাবি করা হয়েছে।

হাসপাতালের আনসার সদস্য মামুন রশিদ বলেন, সাধারণত সকাল ৯টার মধ্যে চিকিৎসকদের কক্ষে উপস্থিত থাকার কথা, তবে বিশেষ পরিস্থিতি বা যাতায়াতজনিত কারণে কিছুটা বিলম্ব হতে পারে।

বহির্বিভাগের পাশাপাশি জরুরি বিভাগের সেবা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন রোগী ও স্বজনেরা। তাদের অভিযোগ, জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজনে হাসপাতালে এসে পরীক্ষার রিপোর্ট দেখাতে চাইলে কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা পর্যালোচনা না করেই বহির্বিভাগে টিকিট কেটে চিকিৎসক দেখানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এক ভুক্তভোগীর দাবি, তার রোগীর জরুরি অবস্থা থাকা সত্ত্বেও কর্তব্যরত চিকিৎসক রিপোর্ট দেখতে চাননি, বরং বহির্বিভাগে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

চিকিৎসার পরিবেশ নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ২৯ অক্টোবর সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ধারণ করা একটি ভিডিওচিত্রে জরুরি বিভাগের ৭ নম্বর কক্ষে রোগীদের চিকিৎসা চলাকালে শুকনো ঝাড়ু দিয়ে মেঝে পরিষ্কার করতে দেখা যায়। ঝাড়ু দেওয়ার সময় ধুলাবালি উড়তে থাকায় রোগীদের জন্য নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ বজায় রাখা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অন্য একটি ভিডিওচিত্রে ওয়ার্ডের শয্যা পূর্ণ থাকার পাশাপাশি মেঝে ও বারান্দায় রোগীদের স্যালাইন নিতে দেখা যায়।

সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শিব্বীর আহমেদ প্রিন্স জানান, কক্ষ বন্ধ রাখা ও দায়িত্ব পালনে অবহেলার অভিযোগে ইতিমধ্যে দুই কর্মকর্তা-কর্মচারীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তাদের লিখিত জবাব পর্যালোচনা করে পরবর্তী প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

হাসপাতালের বায়োমেট্রিক হাজিরা ব্যবস্থা সম্পর্কে তিনি বলেন, কারিগরি সমস্যার কারণে বর্তমান মেশিনটি পূর্ণাঙ্গভাবে কাজ করছে না। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এমআইএস শাখার মাধ্যমে নতুন মেশিন স্থাপনের প্রক্রিয়া চলছে। নতুন ব্যবস্থা চালু হলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি অনলাইনে ও কেন্দ্রীয়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা সহজ হবে।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. ফজলে রাব্বি বলেন, মানুষ অসুস্থ হয়েই হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসে। তাই চিকিৎসকের কক্ষ বন্ধ থাকা কিংবা দায়িত্ব পালনে অবহেলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে চট্টগ্রাম সিভিল সার্জনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন