ইঞ্জিন ছাড়াই ১ কিলোমিটার পেছনে এলো ট্রেন

ইঞ্জিন ছাড়াই ১ কিলোমিটার পেছনে এলো ট্রেন

কিশোরগঞ্জ থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী ‘কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস’ ট্রেনের ইঞ্জিন খুলে নেওয়ার পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে বগিগুলো ১ কিলোমিটার পেছনে চলে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ভৈরব রেলওয়ে জংশনের ৩ নম্বর প্ল্যাটফর্মে এ ঘটনা ঘটে।

বিজ্ঞাপন

এদিকে ঘটনার তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে অসদাচরণ করেন সহকারী স্টেশন মাস্টার মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া।

ট্রেনের যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিকেল ৪টায় কিশোরগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন থেকে ঢাকাগামী কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনটি ছেড়ে আসে। ভৈরব জংশনে পৌঁছানোর পর ট্রেনটির ইঞ্জিন পরিবর্তন করার জন্য ইঞ্জিন কেটে আলাদা করা হয়। ইঞ্জিনটি আউটারের দিকে চলে যাওয়ার পর হঠাৎ ইঞ্জিনবিহীন বগিগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে পেছাতে শুরু করে। এভাবে চলতে চলতে ট্রেনটি স্টেশন থেকে প্রায় ১ কিলোমিটার দূরে চলে যায়। পরে ট্রেনে থাকা গার্ডের সহায়তায় জরুরি ব্রেক কষে ট্রেনটি থামানো হয়। এ সময় ট্রেনের ভেতর থাকা অসংখ্য যাত্রী চরম আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠার মধ্যে পড়েন।

ঘটনার প্রায় দুই ঘণ্টা পর ইঞ্জিনটি গিয়ে ট্রেনটিকে উদ্ধার করে পুনরায় ৩ নম্বর লাইনে ফিরিয়ে আনে এবং ট্রেনটি ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়।

ট্রেনে থাকা গার্ড ওমর আলী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ভৈরবে ট্রেনটি আসে ৬টা ৮ মিনিটে। ইঞ্জিন কাটার পর আউটার থেকে ঘুরে আসার কথা ছিল। কিন্তু লাইন ব্যস্ত (ডাউন) থাকার কারণে বগিগুলো পেছনের দিকে চলে যায়। তাৎক্ষণিক আমি ট্রেনে উঠে জরুরি ব্রেক করার পর গাড়িটি থেমে যায়। যাত্রীরা কিছুটা আতঙ্কিত হলেও বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

দুই ঘণ্টা বিলম্ব এবং ইঞ্জিন ছাড়া ট্রেন পেছানোর এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে যাত্রীরা রেল কর্তৃপক্ষের দায়িত্বহীনতার অভিযোগ তুলেছেন। তারা বলেন, বাংলাদেশ রেলব্যবস্থায় নজরদারি আরও বাড়াতে হবে, নতুবা মানুষ ট্রেনে চলাচলে উৎসাহ হারাতে পারে।

ট্রেনযাত্রী ওয়ালীদ বলেন, কিশোরগঞ্জ থেকে ৪টায় রওনা দিয়েছিলাম। ভৈরবে এসে দেখি ট্রেনটি পেছন দিকে চলছে। প্রথমে ভেবেছিলাম ইঞ্জিন দিয়েই চলছে, পরে দেখি ইঞ্জিন ছাড়াই স্বয়ংক্রিয়ভাবে গাড়ি চলছে। আমিসহ অনেকেই চরম আতঙ্ক ও ভয়ে ছিলাম।

জসিম উদ্দিন নামে আরেক যাত্রী বলেন, রাতে আমার ভাই প্রবাসে যাবে, ট্রেনে আরও অনেক যাত্রী ছিলেন। নির্ধারিত সময়ে ট্রেন না ছাড়ায় অনেকেরই বড় ধরনের সমস্যা হতে পারত।

নরসিংদীর যাত্রী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ভৈরবে এসে এক ভীতিকর পরিস্থিতির মুখে পড়েছি। যাত্রীরা সবাই চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন। আমরা চাই রেলপথে সরকারের নজরদারি আরও বাড়ানো হোক।

এ বিষয়ে স্টেশন মাস্টার মো. ইউসুফ বলেন, লাইন ব্যস্ত থাকায় এমনটা হয়েছে। পাশাপাশি ঢাকা-সিলেট ও চট্টগ্রামগামী চারটি ট্রেনকে লাইন দিতে গিয়ে ট্রেন ছাড়তে প্রায় দুই ঘণ্টা বিলম্ব হয়েছে।

সাংবাদিকদের সঙ্গে সহকারী স্টেশন মাস্টারের অসদাচরণের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সহকারী স্টেশন মাস্টারের সাংবাদিকদের সঙ্গে আরও ভালো ব্যবহার করা উচিত ছিল। বিষয়টি আমি দেখছি, প্রয়োজনে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করব।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন