আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

কুমিল্লায় রাস্তা সংস্কারে ধীরগতি, দুর্ভোগে যাত্রীরা

এম হাসান, কুমিল্লা

কুমিল্লায় রাস্তা সংস্কারে ধীরগতি, দুর্ভোগে যাত্রীরা
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট এলাকার আমতলীতে রাস্তার সংস্কারকাজে গড়িমসিতে চরম দুর্ভোগে যাত্রীরা। আমার দেশ

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট এলাকার আমতলীতে রাস্তার সংস্কার কাজে ধীরগতিতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রীরা। দিনের বেশিরভাগ সময় যানজটের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। এদিকে, আসন্ন ঈদুল ফিতরের আগে চলমান কাজ শেষ না হলে চরম ভোগান্তির আশঙ্কা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের যাত্রীদের।

তিন দফায় মেয়াদ বাড়িয়েও শেষ হয়নি চলমান কাজ। নিজেদের খেয়ালখুশিতে কাজ বন্ধ ও চালু করার অভিযোগ রয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। মাত্র এক হাজার ৩৬৫ মিটার রাস্তা সংস্কারে ১৭ কোটি টাকার টেন্ডার হলেও কাজের অগ্রগতি নেই। এতে স্থানীয়রাও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

বিজ্ঞাপন

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে মহাসড়কের আমতলী অংশের বড় একটি অংশে খানাখন্দ সৃষ্টি হলে যানবাহন চলাচলে মারাত্মক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়। এ বিষয়ে দৈনিক আমার দেশ-এ সংবাদ প্রকাশের পর রাস্তার সংস্কার করতে ১৯ কোটি টাকার টেন্ডার হয়। প্রকল্পের কাজ পায় ‘হক এন্টারপ্রাইজ’ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

প্রথম ধাপে নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও অর্ধেক কাজও শেষ করতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি। পরে সময় বাড়িয়ে দ্বিতীয় ধাপে কাজ শুরু হলে জানুয়ারির মধ্যে সম্পূর্ণ কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু দ্বিতীয় দফায়ও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হয়নি। তৃতীয় দফায় ফেব্রুয়ারি মাস প্রায় শেষ হয়ে গেলেও কাজ বন্ধ রেখে জনদুর্ভোগ বাড়াচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।

সরেজমিন দেখা যায়, সকালে যান চলাচল তুলনামূলক স্বাভাবিক থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গাড়ির চাপ বাড়তে থাকে। বিশেষ করে বিকাল থেকে শুরু হয় তীব্র যানজট, যা সন্ধ্যা ও রাতে আরো প্রকট হয়। অনেক সময় প্রায় দুই কিলোমিটার রাস্তাজুড়ে যানজট সৃষ্টি হয় । এতে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাতে হয় যাত্রীদের। ইদুল ফিতরের আগে সংস্কারকাজ শেষ না হলে যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

কুমিল্লার আঞ্চলিক যোগাযোগব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ এ সড়ক চান্দিনা, হোমনা, তিতাস, দাউদকান্দি, দেবিদ্বার ও মুরাদনগর উপজেলার যাত্রীদেরও দুর্ভোগ বাড়িয়েছে। একমাত্র প্রধান এ সড়ক দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে অতিরিক্ত সময় ব্যয় হচ্ছে তাদের ।

কুমিল্লার পরিবহন ও রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী লুৎফুর রহমান বলেন, এ দুর্ভোগের ফলে আমাদের অনেক ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। পরিনহন চালক ও যাত্রীরা দিনের পর দিন এ শাস্তি ভোগ করছেন। ঢাকা-চট্টগ্রাম ও কুমিল্লা শহরে প্রবেশমুখের এমন গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়কে ঘণ্টার পর ঘণ্টা এভাবে যানজটে আটকে থাকাটা খুবই কষ্টের বিষয়।

আমতলী এলাকার ব্যবসায়ী রবিউল ইসলাম বলেন, এখানে কাজের নামে টালবাহানা করছেন ঠিকাদাররা। তারা মাসের পর মাস সময় নিয়েও কাজ শেষ করেন না। নিজেদের খেয়ালখুশিতে কাজ করেন, আবার বন্ধ রাখেন।

এ বিষয়ে জানতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হক এন্টারপ্রাইজের চেয়ারম্যান এনামুল হককে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও পাওয়া যায়নি।

সড়ক ও জনপথ বিভাগের কুমিল্লার উপবিভাগীয় প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম বলেন, আমরা তো চাইলে একসঙ্গে পুরো কাজ দ্রুত করতে পারি। কিন্তু কৌশলগত কারণে অর্ধেক অর্ধেক করে বিভিন্ন পার্টে কাজ করতে হয়, যে কারণে দেরি হচ্ছে।

সড়ক ও জনপথ বিভাগের কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার গোলাম মোস্তফা বলেন, মহাসড়কে গাড়ির তীব্র চাপ থাকায় কাজে সময় লাগছে। ঠিকাদারকে বলেছি ঈদের আগেই কাজ শেষ করার জন্য।

কুমিল্লা হাইওয়ে পুলিশ সুপার শাহীনুর আলম বলেন, আমরা বলেছি দ্রুত কাজ শেষ করার জন্য। যত দ্রুত সম্ভব, সবার জন্য তত মঙ্গল। কয়েক দিনের মধ্যে কাজ শেষ না হলে ঈদে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হবে যাত্রীদের ‌।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন