ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম (পীর সাহেব চরমোনাই) বলেন, বাংলাদেশ স্বাধীনতার সময় মানুষের লক্ষ্য ছিল সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা। কিন্তু স্বাধীনতার পর যারা রাষ্ট্র পরিচালনা করেছে তারা দেশকে দুর্নীতির দিকে ঠেলে দিয়েছে।
সোমবার (০২ ফেব্রুয়ারি) সকালে কুমিল্লা-০৯ (লাকসাম-মনোহরগঞ্জ) আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী সেলিম মাহমুদের জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি অভিযোগ করেন, খুন, গুম ও ধর্ষণের মতো অপরাধ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং দেশের অর্থ বিদেশে পাচার হয়ে ‘বেগমপাড়া’ গড়ে উঠেছে। এ অবস্থায় দুর্নীতিগ্রস্তদের মাধ্যমে দেশ সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হতে পারে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরো বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের প্রত্যাশা ছিল। তবে রাজনৈতিক সহযোগীরা শরিয়া আইনভিত্তিক রাষ্ট্র পরিচালনার পরিবর্তে প্রচলিত ব্যবস্থায় চলার পক্ষে মত দেওয়ায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ পৃথকভাবে হাতপাখা প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে।
কুমিল্লা-০৯ (লাকসাম-মনোহরগঞ্জ) আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী সেলিম মাহমুদ সভাপতির বক্তব্যে প্রার্থী আলহাজ্ব সেলিম মাহমুদ বলেন, ‘ভোট একটি পবিত্র আমানত। এই আমানতের সঠিক হেফাজত করা প্রতিটি ভোটারের দায়িত্ব। তিনি চাঁদাবাজ ও টেন্ডারবাজদের বিরুদ্ধে ইসলামের পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। নির্বাচিত হলে লাকসামকে জেলা, মনোহরগঞ্জকে পৌরসভা এবং নাথেরপেটুয়াকে থানা করার প্রচেষ্টা চালানোর অঙ্গীকার করে তিনি বলেন, লাকসাম-মনোহরগঞ্জে দুর্নীতির অবসান ঘটিয়ে জনতার সেবক হিসেবে কাজ করবেন।
জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন মুফতি হাবিবুর রহমান মিছবাহ, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ইমরান হোসাইন নূর, ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা মোরশেদুল আলম, ইসলামী শ্রমিক আন্দোলন বাংলাদেশের কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক নেসার উদ্দিন সুমন, রেলওয়ে শ্রমিক আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সভাপতি আলহাজ্ব শহীদ উল্লাহ ভুঁইয়া, কুমিল্লা জেলা দক্ষিণ নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক মাওলানা নুরুদ্দিন হামিদীসহ স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

