আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

ধানের শীষের জনসভায় আ.লীগ নেতার সভাপতিত্ব, প্রতিবাদে বিএনপির মঞ্চত্যাগ

রংপুর অফিস

ধানের শীষের জনসভায় আ.লীগ নেতার সভাপতিত্ব, প্রতিবাদে বিএনপির মঞ্চত্যাগ
ছবি: আমার দেশ।

রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার মধুপুর ইউনিয়নে ধানের শীষের নির্বাচনি জনসভায় ইউনিয়ন বিএনপির নির্বাচিত সভাপতি মোকসেদুল হককে চেয়ার থেকে উঠিয়ে দিয়ে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মোটকা এনামুলকে সভাপতি করা নিয়ে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এ ঘটনায় বিএনপির নেতাকর্মীরা সভামঞ্চ ত্যাগ করে প্রতিবাদ জানিয়েছেন বলে জানা গেছে।

বিজ্ঞাপন

রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) রাতে মধুপুর ইউনিয়নে ধানের শীষের প্রার্থী মো. আলী সরকারের নির্বাচনি জনসভা চলছিল। শুরুতে সভাটি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোকসেদুল হকের সভাপতিত্বেই চলছিল। তবে অভিযোগ ওঠে, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক জাসদ নেতা অধ্যাপক আজিজুল হক সভামঞ্চে এসে মোকসেদুল হককে চেয়ার থেকে উঠিয়ে দেন এবং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মোটকা এনামুলকে সভাপতি করে নতুন করে সভা শুরু করেন।

এতে উপস্থিত বিএনপির নেতাকর্মী, সমর্থক ও সাধারণ ভোটাররা প্রতিবাদ জানান। কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কারও কথা না শুনে সভা চালিয়ে যেতে থাকেন। একপর্যায়ে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোকসেদুল হকের নেতৃত্বে বিএনপির নেতাকর্মীরা সভামঞ্চ ত্যাগ করে চলে যান।

স্থানীয় বিএনপি সমর্থকদের দাবি, এমন ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি ধানের শীষের ভোট কমে যেতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তাঁরা।

এ বিষয়ে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোকসেদুল হক বলেন, তিনি তৃণমূল নেতাকর্মীদের প্রত্যক্ষ ভোটে সভাপতি নির্বাচিত। ইউনিয়নে যেকোনো সভা-সমাবেশ সাধারণত তার সভাপতিত্বেই হয়। কিন্তু রোববার রাতে তাকে সভামঞ্চের চেয়ার থেকে সরিয়ে আওয়ামী লীগের একজন নেতাকে সভাপতি বানিয়ে সভা চালানো হয়। এর আগেও একই ইউনিয়নের পাকার মাতা এলাকায় এমন ঘটনা ঘটেছিল বলে জানান তিনি।

তিনি আরো বলেন, বিএনপির নেতাকর্মীরা দীর্ঘদিন নির্যাতন-নিপীড়ন সহ্য করে জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছেন। সেখানে বিএনপিকে বাদ দিয়ে আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের চেষ্টা হলে সাধারণ মানুষ বিএনপিকে কীভাবে মূল্যায়ন করবে—তা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে।

এদিকে মধুপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা এবং বদরগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব আলী রাজ বলেন, আওয়ামী লীগের হাতে বিএনপির নেতাকর্মীরা নানা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এখন যদি সুবিধাবাদীদের আবার দলে টেনে নেওয়া হয়, তাহলে সাধারণ মানুষ ভালোভাবে নেবে না। তিনি বলেন, বিএনপির নেতাকর্মীদের ভোটই ধানের শীষকে জেতাতে যথেষ্ট।

তবেএ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আজিজুল হক ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, দলের নেতাকর্মীরা একটু মন খারাপ করেছেন, তবে এগুলো ঠিক হয়ে যাবে। তিনি দাবি করেন, ভোটের মাঠে এমন ঘটনা অনেক জায়গায় ঘটে এবং এটি বড় কোনো বিষয় নয়।

আওয়ামী লীগ নেতাকে এনে সভা করায় সমালোচনার জবাবে তিনি বলেন, ধানের শীষের প্রার্থী নাকি তাদের ওপর পুরোপুরি আস্থা রাখতে পারছেন না। তিনি আরো বলেন, প্রার্থী আওয়ামী লীগকে গালিগালাজ করতে নিষেধ করেছেন বলেই তাঁর নির্দেশনা অনুযায়ী এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

অধ্যাপক আজিজুল হক আরো দাবি করেন, বদরগঞ্জের ১৪ নম্বর বিষ্ণুপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা নয়টি ভোটকেন্দ্রে তাদের জিতিয়ে দেওয়ার কথা বলেছেন। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগকে নিয়ে ভোট করার সিদ্ধান্ত কেন্দ্র থেকেই এসেছে এবং ভোটের ক্ষেত্রে এগুলো হয়ে থাকে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন