খাগড়াছড়ি জেলা শহরের শালবন এলাকায় শারীরিক হামলা, টাকা বিলি ও নাশকতার অভিযোগ তুলে মব সৃষ্টি করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া জামায়াতের তিন নেতাকে খালাস দিয়েছেন নির্বাচনি অপরাধ নিয়ন্ত্রণে গঠিত ইলেক্টোরাল ট্রাইব্যুনাল।
বুধবার দুপুরে শুনানি শেষে বিচারক ও যুগ্ম জেলা জজ শ্রীজ্ঞান তঞ্চঙ্গ্যা এ রায় ঘোষণা করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বেঞ্চ সহকারী বিমান জ্যোতি চাকমা।
খালাসপ্রাপ্তরা হলেন—শালবন ৬ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের আমির লিটন, সহ-সভাপতি কামরুল হাসান ও অফিস সম্পাদক নুরুল হক।
জেলা জামায়াতের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, শালবন এলাকায় দলীয় ব্যানার ছিঁড়ে ফেলার ঘটনা পরিদর্শন ও নির্বাচনি ক্যাম্প স্থাপনের স্থান দেখতে গেলে স্থানীয় বিএনপির ৩০-৪০ জন নেতাকর্মী তাদের ওপর হামলা চালায়। পরে টাকা বিলির অভিযোগ তুলে তাদের কাছে জোর করে টাকা গুঁজে দেওয়ার চেষ্টা করা হয় এবং পেট্রোলের বোতল রেখে নাশকতার অভিযোগ সাজানো হয় বলে দাবি করে দলটি।
খাগড়াছড়ি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কায়কিসুল জানান, খবর পেয়ে পুলিশের একটি মোবাইল টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনজনকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। রাতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উভয় পক্ষের শুনানি নিয়ে বিষয়টি যুগ্ম জেলা জজের নেতৃত্বে গঠিত ইলেক্টোরাল ট্রাইব্যুনালে পাঠানোর পরামর্শ দেন। পরদিন সকাল ১০টায় তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
ট্রাইব্যুনাল উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনেন এবং ঘটনাস্থল তদন্তের পর অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তিন নেতাকে খালাস দেন।
দুপুরে আদালত চত্বরে খাগড়াছড়ি-২৯৮ আসনে ১১ দলীয় জোট মনোনীত জামায়াত প্রার্থী অ্যাডভোকেট এয়াকুব আলী চৌধুরী অভিযোগ করেন, জেলাজুড়ে ১১ দলীয় জোটের নেতাকর্মী ও নারী কর্মীদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, এজেন্ট, কর্মী ও সমর্থকরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, মব সৃষ্টি করে মারধর, আটক রাখা, মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়া ও মানহানির অভিযোগে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে জামায়াত।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

