আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

ভোট ডাকাতিতে জড়িতরা এবার নির্বাচনি দায়িত্বে

বাদশাহ ওসমানী, রংপুর

ভোট ডাকাতিতে জড়িতরা এবার নির্বাচনি দায়িত্বে

ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের আমলে ২০১৮ ও ২০২৪ সালের বিতর্কিত নির্বাচনে ভোট ডাকাতিতে জড়িত প্রিসাইডিং ও সহকারী প্রিসাইডিং অফিসারদের এবারও নির্বাচন কর্মকর্তা বানানো হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ভোট ডাকাতির প্রমাণসহ লিখিত অভিযোগ দিলেও কাজ হয়নি। ফলে নির্বাচনে ভোট কারচুপির আশঙ্কা করছেন বিভিন্ন দলের প্রার্থী, নেতাকর্মী ও সমর্থকরা।

বিএনপি, জামায়াত ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাকর্মীরা অভিযোগ করে বলেন, রংপুরের ছয়টি আসনের ৮৭৫ ভোটকেন্দ্রে যারা ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের হয়ে ২০১৮ এবং ২০২৪ সালে ভোট ডাকাতি ও কারচুপির সঙ্গে জড়িত ছিলেন, তাদের এবারের নির্বাচনেও প্রিসাইডিং, সহকারী প্রিসাইডিং ও পোলিং কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

অথচ ভোট ডাকাতির কুশীলব আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের পদধারী বিতর্কিত শিক্ষক এবং কর্মকর্তাদের তালিকা করে দেওয়া হয়েছিল।

যারা চব্বিশের জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে প্রকাশ্যে আওয়ামী লীগকে সহযোগিতা করেছিলেন, তাদের বাদ দিয়ে নিরপেক্ষ কর্মকর্তা ও শিক্ষকদের নিয়ে ভোট নেওয়ার জন্য লিখিত আবেদন করা হয়েছিল। কিন্তু সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা এবং জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা লিখিত অভিযোগ আমলে না নিয়ে ভোট ডাকাতদের নিয়েই নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেন। ভোটে কোনো কারচুপি বা অনিয়মের ঘটনা ঘটলে রিটার্নিং কর্মকর্তারাই দায়ী থাকবেন।

এনসিপির রংপুর মহানগরীর যুগ্ম সম্পাদক আলমগীর নয়ন বলেন, জুলাই আন্দোলনে ছাত্র-জনতার বিরোধী এবং ২০১৮ এবং ২০২৪ সালের বিতর্কিত নির্বাচনে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের হয়ে ভোট ডাকাতি করা কর্মকর্তাদেরই প্রিসাইডিং, সহকারী প্রিসাইডিং এবং পোলিং কর্মকর্তা নিয়োগ না দিতে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছিল। কিন্তু ভোট ডাকাতির কুশীলবদের বহাল রাখা হয়েছে। ফলে ভোট কারচুপির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

রংপুর জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা এনামুল হক বলেন, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের হয়ে বিতর্কিত ২০১৮ এবং ২০২৪ সালে ভোট ডাকাতি করা কর্মকর্তাদেরই নির্বাচনি দায়িত্বে রাখা হয়েছে। এদের কারণে কারচুপিসহ যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে দায় রিটার্নিং কর্মকর্তার।

মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও রংপুর-৩ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী শামসুজ্জামান সামু বলেন, ভোট ডাকাতিতে জড়িত কর্মকর্তারা নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ ভোটের পক্ষে থাকবেন না বলে আমি মনে করি।

বদরগঞ্জ, মিঠাপুকুর ও সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তারা বলেন, শিক্ষা অফিস থেকে যে তালিকা দেওয়া হয়েছে, সে তালিকা অনুযায়ী পাঠানো হয়েছে। পীরগাছা, কাউনিয়া ও গঙ্গাচড়ার উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তারা বলেন, আমরা তালিকা দিয়েছি, বাছাই করার দায়িত্ব নির্বাচন অফিসের।

এ বিষয়ে রংপুর জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক এনামুল আহসানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কথা বলেননি। এ সময় তার সঙ্গে থাকা এডিসি (জেনারেল) রমিজ আলম বলেন, বিতর্কিত প্রিসাইডিং ও সহকারী প্রিসাইডিং এবং পোলিং কর্মকর্তাদের বিষয়ে সঠিক অভিযোগ পেলে আমরা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিচ্ছি।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...