লক্ষ্মীপুর শহরের ঝুমুর এলাকায় চেকপোস্টে কৃষকদল নেতা বদরুল আলম শ্যামলের গাড়ি থেকে ১৫ লাখ টাকা পাওয়া গেছে। পরে যাচাই-বাছাই শেষে টাকাসহ ওই নেতাকে ছেড়ে দিয়েছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
বুধবার রাত ৮টায় শহরের ঝুমুর চত্বর থেকে টাকাসহ শ্যামলের ব্যবহারকৃত গাড়িটি চেকপোস্টে আটক করা হয়। নির্বাচন অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির সদস্য লক্ষ্মীপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক তাহরিনা আক্তার নওরিন গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
লক্ষ্মীপুরের সহকারী পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) রেজাউল হক জানিয়েছেন, ঝুমুর গোলচত্বর এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি গাড়ি থেকে ১৫ লাখ টাকাসহ বিএনপি প্রার্থী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানির এক কর্মীকে আটক করে আইনশৃঙ্খলাবাহিনী।। পরবর্তীতে বিষয়টি জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে জানানো হয়। যেহেতু এটি তাদের নির্বাচনি ফান্ডের টাকা এবং সব বৈধ কাগজপত্র আছে। তাদের বাজেটের টাকা-পরবর্তীতে ওনি বিনাশর্তে কোনো ধরনের জরিমানা ছাড়া টাকাসহ ওই আটককৃতকে ছেড়ে দিয়েছেন।
তিনি আরও জানায়, ফেসবুকে এসব নিয়ে বিভিন্ন জনের মনগড়া প্রচারণা কোনোভাবে সঠিক নয়। জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তাদের বক্তব্য শুনেছেন এবং বৈধ কাগজপত্র দেখেই তাদের ছেড়েছেন।
বিএনপি নেতা শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি দাবি করেন, নির্বাচনি কেন্দ্র অনুযায়ী খরচ নির্বাহের জন্য এ টাকা রাখা হয়েছিল। কর্তৃপক্ষকে খরচের হিসাব দেওয়ার পর এবং এর সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর আটক হওয়া দুই এজেন্টকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
শ্যামল জেলা কৃষকদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের বিএনপির প্রার্থী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানির খালাতো ভাই। আটক গাড়ির সামনে ও পেছনে লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের বিএনপি প্রার্থী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী নির্বাচনি পোষ্টার সাঁটানো ছিল।
প্রত্যক্ষদর্শী ও নির্বাচন অনুসন্ধান টিম সূত্র জানায়, নির্বাচনকালীন নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঝুমুর এলাকায় চেকপোস্ট চলে। কৃষকদল নেতা শ্যামল নির্বাচনকালীন ব্যবহৃত একটি গাড়িতে (ঢাকা মেট্টো-ঘ ১৭-১৩৭৭) যাচ্ছিলেন। চেকপোস্টে গাড়ি তল্লাশি করে ১৫ লাখ টাকা পাওয়া যায়। পরে শ্যামলকে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের ৪ তলায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে বিচারক তাহরিনা আক্তার নওরিন আধাঘণ্টার মধ্যে কারণ দর্শানোর জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
এ্যানি বলেন, আমি নির্বাচনি কাজে ব্যস্ত রয়েছি। আমার নির্বাচনি কাজে ব্যবহৃত গাড়ি চেক করা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে ঘটনাটি হয়েছে আমার নির্বাচনি এজেন্ট গাড়ি নিয়ে বিভিন্ন কেন্দ্রে যাচ্ছেন। সেখানে যে ব্যয় তন্মধ্যে ১৫ লাখ টাকা কেন্দ্রভিত্তিক দেওয়ার জন্য আমার দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি নিয়ে যাচ্ছিলেন। কোর্ট থেকেও তা ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এটি কেন্দ্র খরচ ছিল।
অতিরিক্ত জেলা পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোহাম্মদ রেজাউল হক বলেন, আটকের পর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে বিষয়টি জানানো হয়। পরে আদালত পরিচালনা করে যাচাই-বাছাই করে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এটি নির্বাচনি তহবিলের বৈধ টাকা বলে নিশ্চিত হয়।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

