কুমিল্লায় ‘ভিক্ষা লাগলে ভিক্ষা নে, চাঁদাবাজি ছেড়ে দে’ এমন স্লোগানের সাইনবোর্ড সাইকেলে টানিয়ে চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে অভিনব প্রতিবাদ করছেন মাদ্রাসাছাত্র মো. সেলিম মিয়া। তার বাড়ি সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে হলেও পড়াশোনা করছেন কুমিল্লার একটি মাদ্রাসায়। আরেকটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন শ্রমিকের।
দেশের চাঁদাবাজির কাছে জিম্মি সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বড় বড় আমলারা। তাই এ সকল চাঁদাবাজদের উচিৎ শিক্ষা দিতে এ পদক্ষেপ নিয়েছেন তিনি। বৃহস্পতিবার সকালে কুমিল্লা পুলিশ লাইন এলাকায় আমার দেশ প্রতিনিধির চোখে পড়ল একজন ব্যক্তি সাইকেল চালিয়ে যাচ্ছেন। সাইকেলের পেছনে একটি প্লে কার্ড লাগানো।
এমন প্লে কার্ড লাগানোর বিষয়ে জানতে চাইলে মো. সেলিম বলেন, আমি এটা লাগিয়েছি মূলত চাঁদাবাজির বিরূদ্ধে প্রতিবাদ স্বরূপ। আমাদের দেশে দিন দিন চাঁদাবাজি বেড়েই চলছে। তাদের বিরুদ্ধে আমার অবস্থান। চাঁদাবাজি যেই করুক যেই দলের লোকই হোক । তাদের বিরুদ্ধে আমার প্রতিবাদ চলবে। আমি অন্যায়কে কখনো প্রশ্রয় দিব না। অন্যায়কারী আমার ছেলে হলেও তাকে আমি প্রশ্রয় দিব না।
২০১৮ থেকে এভাবে প্রতিবাদ করে আসছি জানিয়ে তিনি বলেন, আমি প্রথমে যেই স্লোগানটা সাইকেলে লাগিয়েছি সেটা ছিল কাদিয়ানীবাদের বিরুদ্ধে। কারণ, তারা নিজেদের মুসলমান দাবি করলেও প্রকৃতপক্ষে তারা মুসলমান না। কাদিয়ানীরা আমাদের নবীজির ইসলামকে মানে না, আমি চাই তাদেরকে বাংলাদেশ থেকে অমুসলিম ঘোষণা করা হোক।
দেশের বিভিন্ন সময়ের প্রেক্ষাপট নিয়ে তিনি বলেন, এরপর দেশের বিভিন্ন হত্যাকাণ্ড যেমন, ২০০৯ সালের ৫৭ জন সেনা সদস্য হত্যা করা হয়েছে । এটার বিরূদ্ধে আমি প্রতিবাদ করেছি। বিগত কোন নির্বাচনে আমরা ভোট দিতে পারি নাই। ২০১৩ সাল, ২০১৮, ২০২৪ সালের নির্বাচনে যারা আমাদের ভোটাধিকার হরন করলো আল্লাহ তাদেরকে হেদায়াত করুক না হয় ধ্বংস করে দিক।
জুলাই বিপ্লবের বিষয়ে তিনি বলেন, সবশেষ আমি যে পোস্টার লাগিয়ে প্রতিবাদ করেছি সেটি ছিল ২৪ এর আন্দোলনে আমাদের ছাত্র ভাইদের হত্যার বিচার দাবি করেছিলাম। দেশের মানুষের পক্ষে আমার এই প্রতিবাদ যতদিন প্রাণ আছে ততদিন চলতে থাকবে । আমি কখনো কারোর ভয়ে পিছপা হবো না।
একজন শ্রমিকের দেশপ্রেম ও অন্যায়ের প্রতিবাদ সাড়া জাগিয়েছে নগরজুড়ে। সুন্দর কর্মের প্রশংসা করছেন সুশীল সমাজ।
কুমিল্লা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আবুল হাসনাত বাবুল দৈনিক আমার দেশকে বলেন, জীবনের সবকিছুতেই শুরু হবে গুটিকয়েক মানুষকে নিয়ে। ধীরে ধীরে তা বড় আকার ধারণ করবে। সেলিমের এই কাজটি হয়তো আজ একাই করছেন, কিন্ত আস্তে আস্তে আরো সচেতন লোকজন তার সাথে যোগ দিবে। দেশের চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরূদ্ধে সবাইকে সচেতন হতে হবে। সেলিমের মতো মানুষের পাশে থাকতে হবে আমাদের।
ছবি: কুমিল্লা পুলিশ লাইন এলাকায় সেলিম
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

