টেকনাফে রোহিঙ্গাবোঝাই নৌকাডুবি, নিখোঁজ ১৮

টেকনাফে রোহিঙ্গাবোঝাই নৌকাডুবি, নিখোঁজ ১৮
অনুপ্রবেশের সময় টেকনাফে উদ্ধার রোহিঙ্গারা

মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের চেষ্টাকালে কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার শাহপরীরদ্বীপ উপকূলসংলগ্ন পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে একটি ইঞ্জিনচালিত কাঠের নৌকা ডুবে গেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় জেলেদের উদ্ধার অভিযানে ১৮ জন রোহিঙ্গা জীবিত উদ্ধার হয়েছেন। তবে এখনো অন্তত সাতজন নিখোঁজ রয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

বিজ্ঞাপন

শুক্রবার সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীরদ্বীপ পশ্চিমপাড়া নৌঘাট থেকে প্রায় ১ থেকে দেড় কিলোমিটার দূরে সাগরে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রবল স্রোত ও উত্তাল ঢেউয়ের কারণে মিয়ানমার থেকে আসা ইঞ্জিনচালিত কাঠের নৌকাটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ডুবে যায়। নৌকাডুবি দেখতে পেয়ে স্থানীয় জেলেরা দুটি ইঞ্জিনচালিত মাছধরা ট্রলার নিয়ে দ্রুত উদ্ধার অভিযান চালান। পরে সাগর থেকে ১৮ জনকে জীবিত উদ্ধার করে শাহপরীরদ্বীপ পশ্চিমপাড়া নৌঘাটে নিয়ে আসেন।

প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, নৌকাটিতে মোট ২৭ জন রোহিঙ্গা ছিলেন। উদ্ধার হওয়া ১৮ জনের মধ্যে চারজন রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পের মাঝি (কমিউনিটি নেতা) এবং বাকি ১৪ জন উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরের বাসিন্দা।

উদ্ধার হওয়া চার মাঝি হলেন—উখিয়ার বালুখালী, জামতলী এবং টেকনাফের জাদিমুড়া ও শালবাগান রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা নুর আলম (৩৭), জাহেদ হোসেন (৪২), সৈয়দ নুর (২৭) ও নুর কামাল (৪০)।

উদ্ধার হওয়া সবাইকে প্রথমে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) হেফাজতে নেওয়া হয়। পরে তাদের টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। চিকিৎসা শেষে তাদের টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়।

টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটের দিকে বিজিবি ১৮ জন রোহিঙ্গাকে হাসপাতালে নিয়ে আসে। তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। কারও শরীরে কোনো ধরনের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।

টেকনাফ মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সুকান্ত জানান, বিজিবি ১৬ জন রোহিঙ্গাকে থানায় হস্তান্তর করেছে। বাকি দুজনকে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছিল। প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে, আটক সবাই রোহিঙ্গা নাগরিক।

এদিকে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের রোহিঙ্গাদের সশস্ত্র সংগঠন আরসার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকতে পারে। প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, তারা মিয়ানমারে আরাকান আর্মির বিরুদ্ধে সংঘাতে অংশ নিতে দীর্ঘদিন সেখানে অবস্থান করছিলেন। তাদের কেউ প্রায় এক বছর, আবার কেউ দুই বছর ধরে মিয়ানমারে ছিলেন। যুদ্ধবিরতির সময় খাদ্যসংকট দেখা দেওয়ায় তারা নাফ নদী হয়ে বাংলাদেশে ফেরার চেষ্টা করেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

টেকনাফ ২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হানিফুর রহমান ভূঁইয়া সাংবাদিকদের বলেন, শাহপরীরদ্বীপ এলাকায় নৌকাডুবির ঘটনায় ১৮ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে তাদের বিজিবির হেফাজত থেকে থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, বর্তমানে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলার ৩৩টি আশ্রয়শিবিরে প্রায় সাড়ে ১২ লাখ রোহিঙ্গা বসবাস করছেন। ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সহিংসতা ও সামরিক অভিযানের মুখে কয়েক মাসের ব্যবধানে প্রায় আট লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেন।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন