শিল্পায়ন ও বন্দরকেন্দ্রিক পণ্য পরিবহনের তীব্র চাপে দিনে দিনে বিপজ্জনকভাবে ভারী হয়ে উঠছে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকুণ্ড অংশ। মিরসরাইয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগর থেকে আসা ভারী যান, সীতাকুণ্ডের স্থানীয় শিল্পকারখানার পণ্যবাহী ট্রাক এবং চট্টগ্রাম বন্দরমুখী ও বন্দর থেকে দেশজুড়ে ছুটে চলা কাভার্ড ভ্যানের সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। মহাসড়কের ওপর এই অতিরিক্ত গাড়ি ও একক নির্ভরতার কারণে সামান্য দুর্ঘটনা কিংবা একটিমাত্র যান বিকল হলেই দীর্ঘ পথজুড়ে সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট। ফলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকছে জরুরি যাত্রী ও পণ্যবাহী যানবাহন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ওপর থেকে এই মরণপণ চাপ কমাতে উপকূল ধরে ১৭২ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি বিকল্প মেরিন ড্রাইভ নির্মাণের মহাপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। প্রকল্পটির ফিজিবিলিটি স্টাডি এবং ডিজাইন-ড্রয়িংয়ের কাজ ইতোমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে।
সওজের তথ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত এই মেরিন ড্রাইভটি মিরসরাই থেকে শুরু হয়ে সীতাকুণ্ড উপকূলীয় এলাকা ধরে আনোয়ারা, বাঁশখালী, পেকুয়া ও মাতারবাড়ী হয়ে পর্যটননগরী কক্সবাজার পর্যন্ত সংযোগ স্থাপন করবে। এর মূল লক্ষ্য ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিকল্প একটি শক্তিশালী ও যুগোপযোগী যোগাযোগ করিডর গড়ে তোলা।
সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম অঞ্চলের আঞ্চলিক নির্বাহী প্রকৌশলী মইদুল ইসলাম বলেন, সওজের পক্ষ থেকে প্রকল্পটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। এখন সরকারের চূড়ান্ত নীতিগত সিদ্ধান্ত পাওয়া গেলেই পরবর্তী প্রশাসনিক ও নির্মাণ প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।’
বর্তমানে মিরসরাই ও সীতাকুণ্ডে ইস্পাত এবং জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাত করণসহ বিভিন্ন ভারী শিল্পের কাঁচামাল ও উৎপাদিত পণ্য পরিবহনের জন্য এই মহাসড়কই একমাত্র ভরসা। এর সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দর, বেটার্মিনাল, কর্ণফুলী টানেল ও মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরের বাণিজ্যিক কার্যক্রম যুক্ত হওয়ায় মহাসড়কের ওপর চাপ আরো বহুগুণ বাড়ছে। বিশেষ করে মাতারবাড়ীকে ঘিরে দক্ষিণ চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারমুখী পণ্য পরিবহনে বিকল্প রুটের প্রয়োজনীয়তা এখন সময়ের দাবি। মেরিন ড্রাইভটি বাস্তবায়িত হলে পণ্যবাহী যানবাহনের একটি বড় অংশ এই বিকল্প পথ ব্যবহারের সুযোগ পাবে। সমুদ্রঘেঁষা সড়কের দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্ব ও রক্ষণাবেক্ষণও একটি বড় কারিগরি চ্যালেঞ্জ।
উপকূলীয় অঞ্চলে শিল্পায়ন ও বাণিজ্যের গতি মোটেও থেমে নেই। কিন্তু সেই তুলনায় থমকে আছে যোগাযোগব্যবস্থার আধুনিকায়ন। ফিজিবিলিটি স্টাডি ও নকশা প্রস্তুত থাকার পরও ১৭২ কিলোমিটারের এই স্বপ্নের মেরিন ড্রাইভ প্রকল্পটি এখন কেবল সরকারের একটি সবুজ সংকেত বা নীতিগত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় প্রহর গুনছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


