চট্টগ্রাম অঞ্চলে ২৩ আসনের মধ্যে ২০টিতে প্রার্থী দিয়েছিল চরমোনাই পীরের দল ইসলামী আন্দোলন। কিন্তু কোথাও রাখতে পারেনি জামানত। অধিকাংশ আসনেই মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীদের মধ্যে। তবে কয়েকটি আসনে ইসলামী আন্দোলনের চেয়েও এগিয়ে ছিল ইসলামী ফ্রন্ট ও খেলাফতে মজলিস।
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) জারি করা পরিপত্র অনুযায়ী, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে কোনো প্রার্থী সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি এলাকায় প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগ না পেলে তার জামানত বাজেয়াপ্ত হবে।
তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, উত্তর চট্টগ্রামে ইসলামী আন্দোলনের কোনো প্রার্থীই উল্লেখযোগ্য ভোট পাননি। এমনকি চট্টগ্রাম মহানগরের আমির মো. জান্নাতুল ইসলাম চট্টগ্রাম-১০ আসনে মাত্র তিন হাজার ৮৮০ ভোট পেয়েছেন। এ আসনে ভোটার রয়েছেন চার লাখ ৯২ হাজার ৪৪২।
চট্টগ্রাম-১ আসনে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী ফেরদৌস আহমদ চৌধুরী পেয়েছেন দুই হাজার ১০৮ ভোট। যেখানে বিএনপির বিজয়ী প্রার্থী নুরুল আমিন পেয়েছেন এক লাখ ২৮ হাজার ৭৯৯ ভোট।
চট্টগ্রাম-২-এ জুলফিকার আলী মান্নান পেয়েছেন দুই হাজার ১৬৯ ভোট। বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী সরওয়ার আলমগীর পেয়েছেন এক লাখ ৩৮ হাজার ৫৪৫ ভোট।
চট্টগ্রাম-৩ আসনে আমজাদ হোসেন পেয়েছেন পাঁচ হাজার ১৪৫ ভোট, যা ওই অঞ্চলে দলের সর্বোচ্চ। বিএনপির প্রার্থী মোস্তফা কামাল পাশা ধানের শীষ প্রতীকে ৭২ হাজার ৫৭৯ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন।
চট্টগ্রাম-৪ আসনে মো. দিদারুল মাওলা পেয়েছেন এক হাজার ৩৩৭ ভোট পেয়েছেন। বিএনপি প্রার্থী আসলাম চৌধুরীর এক লাখ ৪৩ হাজার ৬০৭ ভোট পেয়েছেন।
চট্টগ্রাম-৫ আসনে ছয় প্রার্থীর মধ্যে ইসলামিক ফ্রন্টের রফিকুল ইসলাম ১২ হাজার ২২৫, ইসলামী আন্দোলনের মতি উল্লাহ নূরী ১ হাজার ৩১৯, স্বতন্ত্র প্রার্থী ইমাম উদ্দিন রিয়াদ ৮৫৭ ও লেবার পার্টির আলা উদ্দিন ২০৭ ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন। যেখানে বিএনপি প্রার্থী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন পেয়েছেন এক লাখ ১৬ হাজার ৪৪০ ভোট।
চট্টগ্রাম-৬ আসনে প্রার্থী দেয়নি ইসলামী আন্দোলন। এই আসনে চার প্রার্থীর মধ্যে গণসংহতি আন্দোলনের নাছির উদ্দিন তালুকদার ৮২৯ ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন।
চট্টগ্রাম-৭ আসনে আট প্রার্থীর মধ্যে ইসলামী আন্দোলনের আবদুল্লাহ আল হারুন এক হাজার ৩০৭, কমিউনিস্ট পার্টির প্রমোদ বরণ বড়ুয়া ৪৪১, এবি পার্টির মো. আবদুর রহমান ১৫৮, গণঅধিকার পরিষদের বেলাল উদ্দীন ১২৯ ও জাতীয় পার্টির মেহেদী রাসেদ ৪১১ ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন।
চট্টগ্রাম নগরীর চারটি আসনেও পুনরাবৃত্তি হয়েছে একই চিত্র। চট্টগ্রাম-৮-এ মোহাম্মদ নুরুল আলম পেয়েছেন এক হাজার ২০৮ ভোট, চট্টগ্রাম-৯-এ আব্দুস শুক্কুর ৯৪১ ভোট, চট্টগ্রাম-১০-মো. জান্নাতুল ইসলাম পেয়েছেন তিন হাজার ৮৮০ ভোট এবং চট্টগ্রাম-১১ আসনে নুর উদ্দিনের প্রাপ্ত ভোট দুই হাজার ৫৫৭।
দক্ষিণ চট্টগ্রামের আসনগুলোতেও খুব একটা ভিন্নতা নেই। চট্টগ্রাম-১২ আসনে এমএম বেলাল নুর ৯০১, চট্টগ্রাম-১৪-তে মোহাম্মদ আবদুল হামিদ এক হাজার ৫৩৯, চট্টগ্রাম-১৫-তে শরীফুল আলম চৌধুরী দুই হাজার ৯০৯ এবং চট্টগ্রাম-১৬-তে হাফেজ রুহুল্লাহ পেয়েছেন চার হাজার ৫৪ ভোট। চারজনেরই জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
কক্সবাজারও দলটির অবস্থান ছিল দুর্বল। কক্সবাজার-১ (চকরিয়া–পেকুয়া) আসনে সারওয়ার আলী কুতুবী পেয়েছেন চার হাজার ৫২৮ ভোট। কক্সবাজার-২-এ জিয়াউল হক পেয়েছেন আট হাজার ৭৯৯ ভোট—জেলায় দলের সর্বোচ্চ। কক্সবাজার-৩-এ আমিরুল ইসলামের ভোট পাঁচ হাজার ১৪৯ এবং কক্সবাজার-৪-এ নুরুল হক পেয়েছেন চার হাজার ৩৩৮ ভোট। সব আসনেই প্রার্থীরা জামানত হারিয়েছেন।
পার্বত্য চট্টগ্রামেও ভাগ্য বদলায়নি ইসলামী আন্দোলনের। বান্দরবান আসনে মো. আবুল কালাম আজাদ পেয়েছেন চার হাজার ৭১৮ ভোট। রাঙামাটিতে জসিম উদ্দিনের প্রাপ্ত ভোট তিন হাজার ৬৭২। খাগড়াছড়িতে কাউসার পেয়েছেন তিন হাজার ৮৯। তিনজনেরই জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
চট্টগ্রাম অঞ্চলে এবার ইসলামী আন্দোলনের এমন প্রত্যাশার বিপরীত ফল দলের ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
জানতে চাইলে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহানগর আমির মো. জান্নাতুল ইসলাম আমার দেশকে বলেন, মানুষ ক্ষমতালোভী। শরিয়া বোঝে না। সেজন্য কম ভোট পেয়েছে আমাদের প্রার্থীরা। তবে আমাদের অনেক কাজ করার আছে। আশা করি সব কাজ করে সামনের দিকে এগিয়ে যাব।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

