সেন্টমার্টিন দ্বীপের সমুদ্র সৈকত এলাকায় কেয়াগাছ কেটে দখলের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে জবরদখল কাজে কারা জড়িত কেউ মুখ খুলছেনা। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
জানা যায়, সেন্টমার্টিন ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ পাড়া এলাকায় বেশ কিছু কেয়া গাছ কাটা অবস্থায় দেখতে পান স্থানীয়রা। এরপর বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে উদ্বেগ ও মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
সেন্টমার্টিন দ্বীপ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম বলেন, দ্বীপের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ পাড়া সমুদ্র সৈকত এলাকায় কেয়া গাছ নিধনের বিষয়টি তিনি শুনেছেন। তবে কে বা কারা গাছ কেটে ফেলছে, সে বিষয়ে তিনি অবগত নন।
তিনি আরো বলেন, গতকাল রোববার বিষয়টি জানার পর দায়িত্বপ্রাপ্ত বিচ কর্মীকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) কক্সবাজার জেলা সভাপতি এইচ এম এরশাদ বলেন, সেন্টমার্টিন দ্বীপে কেয়া গাছ কেটে ফেলার ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয় ও উদ্বেগজনক। কেয়া গাছ শুধু একটি উদ্ভিদ নয়, এটি উপকূলীয় পরিবেশের প্রাকৃতিক সুরক্ষা বেষ্টনী। এই গাছ ঝড়- জলোচ্ছ্বাসের সময় বালুচর ও বসতভিটা রক্ষা করে এবং সামুদ্রিক জীব-বৈচিত্র্য টিকিয়ে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
স্থানীয়রা জানান, দখল পাকাপুক্ত করতে সারি সারি কেয়া গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। প্রশাসন ও পরিবেশ কর্মীদের দ্রুত এগিয়ে এসে বন রক্ষার উদ্যোগ নেওয়া উচিত। এই গাছগুলো দ্বীপের রক্ষাকবচ ও সৌন্দর্যের প্রতীক।
পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের পরিচালক জমির উদ্দিন বলেন, সেন্টমার্টিনের দক্ষিণ পাড়া সমুদ্র সৈকত এলাকায় কেয়া গাছ কাটার ঘটনাটি আমরা অবগত হয়েছি। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং ইতোমধ্যে প্রাথমিক ভাবে তদন্ত শুরু হয়েছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

