চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার গড়দুয়ারা ও মেখল ইউনিয়ন সারাং সড়কের আনন্দবাজার নির্মাণাধীন সেতুর কাজ নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও শেষ হয়নি। এক দফা সময় বাড়িয়েও এখনো কাজ সম্পন্ন করতে পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। সেতুটি না থাকায়, এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন শিক্ষার্থীসহ আশপাশের দুই ইউনিয়নের প্রায় কয়েক হাজার মানুষ। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত সময়ের মধ্যে সেতুর কাজ শেষ করবে বলে জানান।
সরেজমিনে গড়দুয়ারা-মেখল আনন্দবাজার এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সেতুর পিলারের নির্মাণ শেষ হয়েছে। একটি স্প্যান করার জন্য লোহা বসানো হলেও ধীরগতিতে চলছে স্প্যানের কাজ। কয়েকদিনের বৃষ্টিতে নদীতে পানি বাড়তে শুরু করেছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান খালের ওপর দুই ইউনিয়নের মানুষ চলাচল করার জন্য ছোট্ট একটি বাঁশের সাঁকো তৈরি করেছে। এ সাঁকো দিয়ে দুইপাড়ের শিক্ষার্থীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করে থাকে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার গড়দুয়ারা ও মেখল ইউনিয়নের তিন-চারটি ওয়ার্ডের পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী মার্দাশা ইউনিয়ন এলাকার হাজারো মানুষ প্রতিদিন চলাচল করেন। উপজেলা সদর ইউনিয়ন পরিষদ, হাসপাতালের যাতায়াতের এটি অন্যতম সহজ পথ। এছাড়া শত শত শিক্ষার্থী প্রতিদিন এই নদী পার হয়ে বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া করে থাকে । আবদুল্লাহ নামে দ্বিতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থী বলে, এখন নদীতে পানি বেড়েছে। সাঁকো পেরিয়ে নূরানী মাদরাসায় যাওয়ার সময় অনেক কষ্ট হয়।
গড়দুয়ারা এলাকার শফিক আহমদ ভুট্টু বলেন, এক বছরের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা ছিল অথচ তিন বছর হয়ে গেল, এখনো শেষ হয়নি। যাতায়াতের কোনো বিকল্প রাস্তা নেই। ছোট একটি সাঁকো পেরিয়ে, কষ্ট করে মাদরাসা-স্কুল-কলেজে যেতে হচ্ছে ।
হাটহাজারী উপজেলা এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, আনন্দবাজার ব্রিজ নির্মাণের জন্য স্থানীয় সরকার এলজিডি ৩ কোটি ১৬ লাখ ৬৭ হাজার ৫৩৫ টাকার লম্বা ২১ মিটার ও পাশে ২৪ মিটার মাজেদ এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী দিদার মৌলভী ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসের ১০ তারিখ কাজ শুরু করে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ২০২৪ সালের ১৪ অক্টোবর কাজ শেষ করার জন্য চুক্তিবদ্ধ করেন।
সূত্র জানায়, ২০২৩ সালের ১০ অক্টোবর সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয় এবং ২০২৩ সালের ১৪ অক্টোবরের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান যথা সময়ে কাজ শেষ না করতে পারায়, এলজিডি কর্তৃপক্ষ প্রকল্পের মেয়াদ আরো এক বছর বাড়িয়ে ২০২৫ সালের ২৭ জুনের মধ্যে শেষ করার জন্য সময় বৃদ্ধি করে। কিন্তু বর্ধিত সময়সীমা শেষ হওয়ার এক বছর অতিবাহিত হলেও বর্তমানে ২০২৬ সালে এখনো সেতুর ৭০ ভাগ কাজও শেষ হয়নি।
এ বিষয়ে হাটহাজারী উপজেলা প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম বলেন, গড়দুয়ারা মেখল সীমান্ত আনন্দবাজার এলাকায় নির্মাণাধীন সেতুর কিছু কাজ শেষ করার চেষ্টা করছি। অতিবৃষ্টির কারণে সেতুর ঢালাইটা করতে পারছি না।
হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মুমিন বলেন, সম্প্রতি সেতুর এলাকাটি পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে কর্তৃপক্ষকে। দ্রুত সময়ের মধ্যে সেতুর কাজ শেষ করবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

