চট্টগ্রামের বায়েজিদে সরওয়ার হোসেন বাবলা হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা সংক্রান্ত অডিও প্রকাশের পর নতুন করে কান্নায় ভেঙে পড়েছে পরিবার। অডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বাবলার ছোট ভাই ইমরান খান আজিজ তার ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক হৃদয়বিদারক পোস্ট দেন।
সেখানে তিনি লেখেন, চারদিকে অন্ধকার, মিথ্যাচার ও হতাশা… আত্মহত্যা ছাড়া বিকল্প কিছু মাথায় আসতেছে না। বৃদ্ধ মা-বাবার বাকি জিন্দেগীর দায়িত্বটা যদি কেউ নিতেন, তাহলে মৃত্যুটা শান্তিময় হতো।’
শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে পোস্টের বিষয়ে আমার দেশকে নিশ্চিত করেছেন তিনি। তবে বিস্তারিত কিছু বলতে চাননি।
শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদের কথোপকথনের অডিও ফাঁস হওয়ার পর তার পরিবারের ওপর যেন পাহাড় ভেঙে পড়েছে। বাবলার ভাইয়ের এই পোস্ট নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বাবলার পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তার পরিবারে এখন শোকের সঙ্গে যোগ হয়েছে ভয়, অসহায়ত্ব আর বিচার না পাওয়ার গভীর হতাশা। ইমরানের পোস্টে ফুটে উঠেছে সেই যন্ত্রণা।
পরিবার-ঘনিষ্ঠরা বলছেন, বাবলা হত্যার পর থেকে পরিবারের ওপর নানা ধরনের চাপ, ভয়ভীতি ও মানসিক নির্যাতন চলছে। অডিওটি প্রকাশ পাওয়ার পর সেই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে।
ইমরান খান আজিজ তার পোস্টে আরও লিখেছেন, ‘মিথ্যাচার ঘিরে আছে চারপাশ… কেউ সত্য জানতে চায় না।’
পরিবার জানায়, বাবলা ছিলেন রাউজান–বায়েজিদ এলাকায় বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয়। তাকে একের পর এক হামলা, হুমকি দেয়া হয়েছিল। সর্বশেষ ৫ নভেম্বর চালিতাতলীতে গণসংযোগে ঢুকে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। সেই হত্যার পরিকল্পনা–সংক্রান্ত অডিওতে বড় সাজ্জাদ স্পষ্ট করে বলেন, ‘আমার ছেলেবেলে ডিটারমাইন্ড ছিল বলে কাজটা হয়েছে।’
এই বক্তব্য ভাইরাল হওয়ার পরই আবেগতাড়িত হয়ে পোস্ট দেন বাবলার ভাই।
বাবলার পরিবার বলছে, যখন একজন সন্ত্রাসী প্রকাশ্যে স্বীকার করে, সেটিংয়ের অঙ্ক বলছে, হত্যার পরিকল্পনা গর্ব করে বর্ণনা করছে, তখনও যদি বিচার না পাওয়া যায়- তাহলে সাধারণ মানুষের ভরসা কোথায়?
ইমরানের পোস্টে তাই উঠে এসেছে তীব্র বেদনা, নিজের মৃত্যুর কথা নয়, বরং বৃদ্ধ মা-বাবাকে রেখে যাওয়ার ভয়ই তাঁর চোখে সবচেয়ে বড় অন্ধকার।
পুলিশ বলছে, অডিওটির সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে এবং তদন্তে নতুন তথ্য মিলতে পারে। তবে বাবলার পরিবার বিশ্বাস করছে না যে তারা নিরাপদ। পরিবারের সদস্যদের মতে, বাবলার মৃত্যু হয়তো শেষ নয়- আমরা যেকোনো সময় টার্গেট হতে পারি।
৫ নভেম্বর বিএনপির প্রার্থী এরশাদ উল্লাহর গণসংযোগে সরওয়ার হোসেন বাবলাকে ঘাড়ে পিস্তল ঠেকিয়ে গুলি করে হত্যা করা হয়। সেই ঘটনাতেও বড় সাজ্জাদের নাম উঠে আসে। এখন নতুন অডিও প্রকাশের পর হত্যাকাণ্ডের পেছনে তার ‘সরাসরি নির্দেশ’ ছিল- এটাই আরও নিশ্চিত হচ্ছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

