চট্টগ্রামে নগরজুড়ে জলাবদ্ধতা : ৪০ টাকার রিকশা ভাড়া ১৫০ টাকা

চট্টগ্রামে নগরজুড়ে জলাবদ্ধতা : ৪০ টাকার রিকশা ভাড়া ১৫০ টাকা

চট্টগ্রামে ভোর থেকে অতিভারী বৃষ্টিতে নগরজুড়ে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে নিচু এলাকাগুলো কোথাও হাঁটু আবার কোথাও কোমর পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন অফিস ও স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা। সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় সিএনজি অটোরিকশার চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। সুযোগ নিয়ে রিকশাচালকেরাও ভাড়া বাড়িয়ে দেন। সাধারণ সময়ে ৪০ টাকার ভাড়া নেওয়া হয়েছে দেড়শ টাকা পর্যন্ত। অন্যান্য গণপরিবহনও তেমন চলাচল করেনি।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয়রা জানান, সাগরে লঘুচাপের প্রভাবে রোববার রাত থেকেই বন্দরনগরীতে বৃষ্টি শুরু হয়। সোমবার ভোর থেকে শুরু হয় অতিভারী বৃষ্টিপাত। সকাল ৭টার আগেই নগরীর বিভিন্ন এলাকা পানিতে নিমজ্জিত হয়। নিচু এলাকার বাসিন্দারা ঘুম থেকে উঠেই ঘরে হাঁটু পানি দেখতে পান। বৃষ্টিতে খাল-নালা ও নর্দমা উপচে রাস্তা-ঘাট ছাপিয়ে পানি বাসাবাড়িতে ঢুকে পড়ে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েন বাসিন্দারা।

নগরীর বাকলিয়া, মেহেদীবাগ, কাপাসগোলা, চকবাজার, আগ্রাবাদ, হালিশহরসহ বিস্তীর্ণ নিচু এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। পানিবন্দি হয়ে পড়েন সাধারণ মানুষ। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, সাগরে লঘুচাপের প্রভাবে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে পানির উচ্চতা বেড়েছে। এতে খালের পানি সময়মতো নামতে পারছে না। এ কারণেই নগরজুড়ে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।

নগরীর প্রবর্তক মোড়ে রিকশায় করে কোমর পানি মাড়িয়ে অফিসের উদ্দেশ্যে বের হওয়া আকমল হোসেন জানান, তিনি পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকার বাসিন্দা। সাধারণ সময়ে প্রতিদিন সিএনজি অটোরিকশায় করে অফিসে যান। সোমবার সকালে বাসা থেকে বের হয়েই রাস্তায় কোমর পানি দেখতে পান। অনেক সময় অপেক্ষার পর একটি রিকশা পান। ২০০ টাকার বিনিময়ে গোলপাহাড় মোড় পর্যন্ত ভাড়া ঠিক করেছেন। এরপর অন্য যানবাহনে করে অফিসে যাওয়ার চেষ্টা করবেন তিনি।

চকবাজার এলাকায় ইসমাইল হোসেন নামের এক কলেজ শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা হয়। কাপাসগোলার বাসা থেকে বের হয়ে কোমর পানি মাড়িয়ে মহসিন কলেজে যাচ্ছিলেন তিনি। ইসমাইল বলেন, প্রতি বৃষ্টিতে মেয়র ও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বলে, আগামী বৃষ্টির আগেই জলাবদ্ধতা সহনীয় পর্যায়ে আসবে। কোমর পানিতে তলিয়ে থাকা যদি সহনীয় জলাবদ্ধতা হয়, তাহলে বলার কিছু নেই।

একই এলাকায় কোমর পানি মাড়িয়ে নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান চকবাজারের উদ্দেশে বের হওয়া সাইফুল ইসলাম বলেন, জলাবদ্ধতার ছবি ও ভিডিও দেখিয়ে উন্নয়ন সংস্থাগুলো বাজেট আনে, কিন্তু মানুষের দুর্ভোগ কখনোই কমে না। কোমর পানিতে দাঁড়িয়ে অমাবস্যা-পূর্ণিমায় জোয়ারের উচ্চতা বেশি থাকায় জলাবদ্ধতা হচ্ছে—এমন কথা শুনতে হয়। অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে পানি নামতে পারছে না, নগর কর্তাদের কাছ থেকে এমন গল্পও শুনতে হয়। এটা দুঃখজনক।

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়া পূর্বাভাস কর্মকর্তা ইসমাইল ভূইঞা জানান, সকাল ৯টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ১৮৯ দশমিক ০৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত তিন ঘণ্টায় ১০৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। এমন অতিভারী বৃষ্টিপাত আরও দুই দিন চট্টগ্রামে হতে পারে। ইতোমধ্যে পাহাড়ধস ও জলাবদ্ধতার সতর্কতা জারি করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন জানান, তিন ঘণ্টায় ১০৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। অতিবৃষ্টির কারণেই নগরীর নিচু এলাকায় পানি উঠেছে। সিডিএ অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে মিলে কাজ করছে। নালা-নর্দমা ও খালের যেখানে প্রতিবন্ধকতা রয়েছে, সেগুলো অপসারণের কাজ চলছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে পানি নেমে যাবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

জেডএম

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন