বুধবার সকালের বৃষ্টিতে ফের তলিয়ে গেল চট্টগ্রাম নগর। দুপুর ১টায় প্রবর্তক মোড়ে গিয়ে দেখা গেল হাঁটুসমান পানি। রাস্তায় যানবাহন নেই, পথচারীও নেই। শুধু পানি আর পানি। যে মোড় গতকাল রাত থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত স্বাভাবিক ছিল, আজ দুপুরে সেটি আবার পরিণত হয়েছে এক বিশাল জলাশয়ে। নগরবাসীর মুখে তখন একটাই কথা, আবার শুরু হলো।
বুধবার দুপুর একটা। প্রবর্তক মোড়ে পা রাখতেই বোঝা গেল পরিস্থিতি। সড়কের ওপর হাঁটুসমান পানি থইথই করছে। পাশের দোকানপাটের সামনে পানি জমে আছে। কোনো কোনো দোকানের ভেতরেও ঢুকে গেছে পানি। শাটার আধখোলা রেখে মালিকরা দাঁড়িয়ে দেখছেন অসহায়ভাবে। কিছু কিছু রিকশা পানি মাড়িয়ে যাত্রী নিয়ে যাচ্ছেন।
রাস্তায় তেমন রিকশা নেই, সিএনজি নেই। যে দু-একটি মোটরসাইকেল চলার চেষ্টা করছে, সেগুলোও মাঝপথে ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে আটকে যাচ্ছে। পায়ে হেঁটে যাওয়া মানুষগুলোর প্যান্ট গুটিয়ে নেওয়া, মুখে বিরক্তি আর ক্লান্তি।
মোড়ের পাশে একটি ফার্মেসির মালিক ইদ্রিস আলম বলেন, গতকাল ও আজ সকালে মেয়র সাহেব এসেছিলেন, পানি নেমে গিয়েছিল। আজ দুপরে উঠে দেখি আবার একই অবস্থা। তাহলে কী লাভ হলো?
পাশে দাঁড়ানো আরেকজন যোগ করলেন, প্রতি বছর একই কথা। বাঁধ সরাও, পানি নামাও। কিন্তু স্থায়ী সমাধান কবে হবে?
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেল, শুধু প্রবর্তক মোড় নয়, আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকাও পানিতে ডুবে আছে। মুরাদপুর, ষোলশহর, বহদ্দারহাট, চকবাজার, কাতালগঞ্জ-সর্বত্র একই চিত্র। কোথাও হাঁটুপানি, কোথাও আরও বেশি।
ষোলশহরের বাসিন্দা নাজমা বেগম জানালেন, রাত থেকেই বাড়ির নিচতলায় পানি ঢুকে গেছে। সকালে উঠে দেখেন রান্নাঘর ডুবে আছে। রান্না করতে পারছি না। বাচ্চারা না খেয়ে আছে। কতদিন এভাবে থাকব? প্রশ্ন করলেন তিনি।
বহদ্দারহাটের এক ব্যবসায়ী জানান, তার গুদামে পানি ঢুকে কয়েক লাখ টাকার মাল নষ্ট হয়ে গেছে। বিমা নেই, ক্ষতিপূরণ নেই। প্রতি বছর এই কষ্ট। সরকার কি দেখে না?
মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন আমার দেশ-কে বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের কাজ সিডিএ করছে। এই প্রকল্পে আমার সরাসরি কোনো দায়িত্ব নেই। কিন্তু নগরবাসী যখন কষ্টে পড়েন, তখন মেয়র হিসেবে আমি চুপ করে বসে থাকতে পারি না। মানুষের পাশে থাকাটা আমার নৈতিক দায়িত্ব।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

