কুমিল্লার চান্দিনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে এক নারী উদ্যোক্তার ভুয়া অশ্লীল ছবি ও ভিডিও তৈরি, সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি এবং ৩ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। মামলার পর অভিযান চালিয়ে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে চান্দিনা থানা পুলিশ।
অভিযোগ রয়েছে, টাকা ও কু-প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ওই নারী উদ্যোক্তার বিউটি পার্লারে ঢুকে তাকে শ্লীলতাহানি এবং মোবাইলে ভিডিও ধারণেরও চেষ্টা করা হয়।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, মহিচাইল ইউনিয়নের মহিচাইল বাজারে নিউ হাজী জব্বার মার্কেটের নিচতলায় ‘আনিশা বিউটি পার্লার’ পরিচালনা করেন ইসরাত জাহান পপি (২৯)। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি তাকে বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্ত ও অনৈতিক প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ায় অভিযুক্তরা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তার ভুয়া অশ্লীল ছবি ও ভিডিও তৈরি করে।
পরে ওই ছবি ও ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ভুক্তভোগীর কাছে ৩ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৭ মে দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে অভিযুক্ত মো. রুবেল (২৮), মো. জামাল (৪০) ও হানিফ (২৩) বিউটি পার্লারে প্রবেশ করে পুনরায় আপত্তিকর ভিডিও দেখিয়ে ভয়ভীতি ও কু-প্রস্তাব দেয়। একপর্যায়ে তারা টাকা দাবি করে এবং ভুক্তভোগীর মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালায়। এতে বাধা দিলে তাকে জোরপূর্বক শ্লীলতাহানির চেষ্টা করা হয়। একই সঙ্গে মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণেরও চেষ্টা করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।
ভুক্তভোগীর চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা দ্রুত পালিয়ে যায়। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে চান্দিনা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এ ঘটনায় পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ও নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করা হয়েছে।
চান্দিনা থানার অফিসার ইনচার্জ আতিকুর রহমান জানান, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই শিশির ঘোষ সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে শুক্রবার (৮ মে) ভোরে অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত দুই আসামি রুবেল ও জামালকে গ্রেপ্তার করেন। অপর আসামি হানিফ পলাতক রয়েছেন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

