এবার ঈদুল ফিতরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে প্রাণ গেছে ২৭ জনের। এ যেন মৃত্যুর মিছিল। গত ১৬ মার্চ থেকে ২৬ মার্চ পর্যন্ত ৩৭ দুর্ঘটনায় ২৭ জন নিহত এবং কমপক্ষে ১০৬ জন আহত হয়েছে। কুমিল্লা হাইওয়ে পুলিশ সুত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
জানা গেছে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে চৌদ্দগ্রাম পর্যন্ত ১০৪ কিলোমিটার মহাসড়কে এসব দুর্ঘটনা ঘটে। বেশির ভাগ দুর্ঘটনাই ঘটেছে দায়িত্ব অবহেলা, চালকদের বেপরোয়া গতি এবং অসচেতনতার কারণে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মহাসড়কে দুর্ঘটনা ঘটলেই তদন্ত কমিটির নামে লোক দেখানো কমিটি করা হলেও এসব কমিটির প্রতিবেদন কখনো আলোর মুখ দেখেনি। এ কারণে দুর্ঘটনার পর চালকেরা আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে বের হয়ে যায় এবং আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠে। এর জন্য প্রয়োজন সঠিক আইন এবং চালকদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ।
হাইওয়ে পুলিশের এডিশনাল ডিআইজি ও কুমিল্লা হাইওয়ে পুলিশ সুপার মো. শাহিনুর আলম খান জানান, গত ১৬-২৬ মার্চ পর্যন্ত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ৩৭টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে ২৭ জন নিহত এবং ১০৬ জন আহত হয়েছে।
ঈদের দিন রাতেই কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড রেলক্রসিংয়ে ঢাকা মেইল ট্রেনের ধাক্কায় লক্ষ্মীপুরগামী মামুন পরিবহনের ১২ যাত্রী নিহত এবং আহত হয় ১৮ জন। গত বৃহস্পতিবার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে কুমিল্লার বুড়িচংয়ের কালাকচুয়া এলাকায় স্টার লাইন পরিবহনের বাসের ধাক্কায় প্রাইভেট কারে থাকা একই পরিবারের চারজনসহ নিহত হয় পাঁচজন। এতে নিহত হয় ঢাকার মোহাম্মদপুরের একটি মাদরাসার মুফতি আব্দুল মোমেন, তার স্ত্রী ও দুই সন্তান। বেঁচে আছে আরেক ছেলে হাফেজ আবরার (১২)। বাবা-মাকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছে সে।
ঈদের দিন রাতে ঝিনাইদহ থেকে স্ত্রী ও দুই মেয়েকে নিয়ে লক্ষ্মীপুরে যাচ্ছিলেন পিন্টু ইসলাম। জরুরী কাজে পিন্টু ঢাকায় নেমে গেলেও স্ত্রী ও দুই সন্তানকে লক্ষ্মীপুরের বাসে তুলে দিয়েছিলেন। কিন্তু কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড রেলক্রসিংয়ে ট্রেনের ধাক্কায় প্রাণ হারায় পিন্টুর স্ত্রী ও দুই কন্যা।
সড়কের নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা সংগঠন রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, ১৭ থেকে ২৬ মার্চ ভোর পর্যন্ত দেশে ৩৪২টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। গত বছর ঈদুল ফিতরের ছুটির সময় ১১ দিনে সড়ক দুর্ঘটনায় ২৪৯ জন নিহত হয়েছিলেন। এবার ঈদুল ফিতরের আগে-পরে ১০ দিনে দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় ২৭৪ জন নিহত হয়েছে। সে হিসাবে গতবারের তুলনায় এবার সড়কে মৃত্যু বেশি।
কুমিল্লা হাইওয়ে পুলিশ সুপার মো. শাহিনুর আলম খান আমার দেশকে বলেন, অতিরিক্ত গতি, চালকদের অবহেলা, ওভারটেকিং এবং পথচারীদের সচেতনতার অভাবেই দুর্ঘটনাগুলো করছে। গত ১০ দিনে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ৩৭টি দুর্ঘটনায় ২৭ জন প্রাণ হারিয়েছে।
কুমিল্লার বিশিষ্ট নাগরিক এবং স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে পুলিশের দায়িত্বে অবহেলা রয়েছে। এবার ঈদে মহাসড়কে থ্রি হুইলার অতিরিক্ত মাত্রায় চলাচল করেছে। তাদের কাছ থেকে পুলিশের মাসোয়ারা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। হাইওয়ে পুলিশ আরো দায়িত্বশীল না হলে মহাসড়কে মৃত্যুর মিছিল আরো বাড়বে বলে ধারণা বিশিষ্টজনদের।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

