এমপির সুপারিশে সেবা না দেওয়ায়

কুমিল্লায় পল্লী বিদ্যুৎ কর্মকর্তা বরখাস্ত

 কুমিল্লায় পল্লী বিদ্যুৎ কর্মকর্তা বরখাস্ত
ছবি: আমার দেশ

কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীর সুপারিশ সংবলিত আবেদন নিয়ে আসা এক গ্রাহককে যথাযথ সেবা না দেওয়ার অভিযোগে কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর এক ওয়্যারিং পরিদর্শককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। দায়িত্ব পালনে অবহেলা ও গ্রাহক হয়রানির অভিযোগে মানিক খান নামের ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

মানিক খান কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর ওয়্যারিং পরিদর্শক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে সমিতির মানবসম্পদ বিভাগে সংযুক্ত করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী দীলিপ চন্দ্র চৌধুরীর সই করা অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়। ৩০ সেপ্টেম্বর জারি করা ওই আদেশে বলা হয়েছে, ১ অক্টোবর থেকে সাময়িক বরখাস্তের আদেশ কার্যকর হবে।

অফিস আদেশের তথ্য অনুযায়ী, গত ২০ সেপ্টেম্বর কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীর সুপারিশসংবলিত একটি আবেদন নিয়ে আবুল হোসেন নামের এক ব্যক্তি কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ কার্যালয়ে ওয়্যারিং পরিদর্শক মানিক খানের কাছে যান। আবুল হোসেনের বাবার নাম মো. আলী আকবর। তার বাড়ি কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার দুর্গাপুর এলাকায়।

অভিযোগ করা হয়েছে, সংসদ সদস্যের সুপারিশ থাকা সত্ত্বেও ওয়্যারিং পরিদর্শক আবেদনটি গুরুত্বসহকারে দেখেননি এবং তা গ্রহণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না করে ‘প্রকল্প নেই’ বলে আবেদনকারীকে বিদায় করে দেন। বিষয়টি সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীর নজরে এলে তিনি এ ঘটনায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন বলে অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

অফিস আদেশে আরও বলা হয়, বিদ্যুৎ একটি অত্যাবশ্যকীয় জরুরি সেবা। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সদস্য সেবা বিভাগে কর্মরত কর্মকর্তাদের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হলো অফিসে আসা গ্রাহক ও সেবাপ্রত্যাশীদের যথাযথ সেবা নিশ্চিত করা। কিন্তু মানিক খান দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হওয়ায় একজন সেবাপ্রত্যাশী হয়রানির শিকার হয়েছেন এবং এতে প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ মনে করেছে।

এ ঘটনাকে দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনে অবহেলা হিসেবে উল্লেখ করে অফিস আদেশে বলা হয়েছে, কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর কর্মচারী চাকরিবিধি অনুযায়ী এ ধরনের আচরণ অসদাচরণ হিসেবে বিবেচিত এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

এর পরিপ্রেক্ষিতে একই চাকরিবিধির ৪৩(১) ধারা অনুযায়ী মানিক খানকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর মানবসম্পদ বিভাগে সংযুক্ত করা হয়। সাময়িক বরখাস্তকালীন তিনি সংশ্লিষ্ট চাকরিবিধি অনুযায়ী খোরাকি ভাতা পাবেন বলেও অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে নিজের বক্তব্য দিয়েছেন ওয়্যারিং পরিদর্শক মানিক খান। তিনি বলেন, তার কাছে আসা আবুল হোসেন নামের ওই ব্যক্তির মিটারের জন্য এর আগেই একটি আবেদন করা হয়েছিল। সে সময় বিদ্যুতের খুঁটি ও মিটার সংযোগ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হলেও তার প্রতিবেশীর বাধার কারণে সংযোগ দেওয়া সম্ভব হয়নি।

মানিক খান বলেন, পরে আবুল হোসেন সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীর সুপারিশসংবলিত আরেকটি আবেদন নিয়ে তার কাছে নিয়ে আসেন। তখন তিনি তাকে শুধু কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে বলেছেন। কারণ, তখন তাদের প্রকল্প শেষ হয়ে যাওয়ায় নতুন সংযোগ দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় খুঁটি ছিল না। গ্রাহকের সঙ্গে তার এ বিষয়ে শুধু এতটুকুই কথা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

এ বিষয়ে কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী দীলিপ চন্দ্র চৌধুরী বলেন, গ্রাহকের সেবা দেওয়াই তাদের প্রধান কর্তব্য। মানিক খান গ্রাহককে সেবা দিতে পারেননি। ফলে গ্রাহক ভোগান্তির শিকার হয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘একজন গ্রাহককে তার অধিকার ও সেবা দেওয়ার জন্য স্থানীয় একজন সংসদ সদস্য সুপারিশ করেছিলেন। এরপরও তিনি দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনে ব্যর্থ হয়েছেন এবং অবহেলা করেছেন। এ কারণে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।’

কর্তৃপক্ষের আদেশ অনুযায়ী, মানিক খানের সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত ১ অক্টোবর থেকে কার্যকর হয়েছে। একই সঙ্গে তাকে কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর মানবসম্পদ বিভাগে সংযুক্ত করা হয়েছে।

এমএইচ

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন