কক্সবাজারে খুলনার কাউন্সিলর রব্বানী হত্যাকাণ্ড

সেই রহস্যময়ী নারীসহ ৩ হত্যাকারী গ্রেপ্তার

জেলা প্রতিনিধি, মেহেরপুর

সেই রহস্যময়ী নারীসহ ৩ হত্যাকারী গ্রেপ্তার

মৌলভীবাজার থেকে হত্যাকাণ্ডের ছয় দিন পর রহস্যময়ী সেই নারীসহ ৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। কক্সবাজার পুলিশ সুপার মো. রহমত উল্লাহ আমার দেশকে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ওই তরুণী এবং মাথায় গুলি করা সেই যুবকসহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে সোমবার রাতে।

তিনি জানান, অবশেষে সেই রহস্যময়ী নারী ‘রুমী’কে গ্রেফতার করতে পেরেছে পুলিশ। খুলনা মহানগর আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা ও খুলনা সিটি করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর গোলাম রব্বানী টিপু হত্যাকাণ্ডে জড়িত এই নারী। একই সাথে গোলাম রব্বানী টিপুকে মাথায় গুলি করে হত্যাকারিকেও ধরতে পেরেছে। ওই নারী ও গুলিবর্ষণকারীসহ তিনজনকে সিলেটের মৌলভীবাজার থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ইতোপূর্বে এই ঘটনায় নিহত টিপুর বন্ধু ও একই সিটি করপোরেশনের আরেক সাবেক কাউন্সিলরসহ দুইজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছিল। কক্সবাজার জেলা পুলিশের একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে একটি টিম তিনদিন ধরে সেখানে কাজ করছে। মঙ্গলবার রাতে তারা কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে রওয়ানা করবে।

বিজ্ঞাপন

গত ৯ জানুয়ারি (বৃহস্পতিবার) রাত সাড়ে ৮টার দিকে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের সী গাল

পয়েন্টে খুলনা সিটি করপোরেশনের ৪নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর গোলাম রব্বানী টিপুকে গুলি করে হত্যা করে একদল আততায়ী। এই হত্যাকাণ্ডের পর দ্রুত কক্সবাজার ছেড়ে যায় রুমী নামের রহস্যময় সেই তরুণী। তখন থেকে সেই নারীকে খুঁজছিল পুলিশ।

তিনি গ্রেপ্তার হওয়া তিনজনের ব্যাপারে বিস্তারিত জানাতে পারেননি। তবে তিনি জানিয়েছেন,

হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্রসহ ওই জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বুধবার সকালে এক প্রেস

মিটের মাধ্যমে তাদের ব্যাপারে জানানো হবে।

ইতোপূর্বে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক হওয়া দুইজন হলেন খুলনা সিটি করপোরেশনের ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের অপসারিত কাউন্সিলর ও একই ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক শেখ হাসান ইফতেখার ওরফে চালু ও কক্সবাজার শহরের টেকপাড়া এলাকার বাসিন্দা মিজবাউল হক ভূট্টো।

পুলিশ সূত্র বলছে, অনেক বিষয় সামনে রেখে হত্যারহস্য উদঘাটনের চেষ্টা চলছে। তবে পুলিশ

নিশ্চিত, এটা ‘টার্গেট কিলিং’।

পুলিশ সুপার মো: রহমত উল্লাহ মনে করেন, এটি সাধারণ কোনো হত্যাকাণ্ড নয়, এটি একটি ‘টার্গেট কিলিং।’

হত্যাকাণ্ডের পরপরই কক্সবাজারে দায়িত্বরত র‌্যাব-১৫ গোলাম রব্বানী হত্যাকাণ্ড নিয়ে পুলিশের পাশাপাশি আলাদা ভাবে কাজ করছে। র‌্যাব অধিনায়ক লে. কর্ণেল এইচ এম সাজ্জাদ হোসেন তখন জানিয়েছিলেন, ইফতেখার ও ভূট্টোকে কক্সবাজার শহরের কলাতলী সড়কের হোটেল গোল্ডেন হিল থেকে শুক্রবার রাত ১২টার পর আটক করা হয়।

তার মতে, ধৃত ইফতেখারসহ নিহত গোলাম রব্বানী টিপু বৃহস্পতিবার (৯ জানুয়ারি) সকালে

কক্সবাজারে আসেন। তারা শহরের গোল্ডেন হিল নামের একটি আবাসিক হোটেলে উঠেন। তাদের সাথে একটি মেয়েও ছিল।

হোটেল গোল্ডেন হিলের ‘অতিথি লিপিবদ্ধ বই’য়ের তথ্য মতে, আটক শেখ হাসান ইফতেখার, নিহত গোলাম রব্বানী টিপুর সাথে রুমি (২৭) নামের এক নারীও সকাল ৭টায় ওই হোটেলে উঠেন। রুমি নামের ওই নারী পলাতক ছিলেন।

এদিকে আবাসিক হোটেলটির অভ্যর্থনা কক্ষের একটি সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা ৩১ মিনিটে ওই নারীসহ নিহত সাবেক কাউন্সিলর গোলাম রব্বানী হোটেল থেকে বেরিয়ে যান। এরপর রাত ৮টা ২০ মিনিটের দিকে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত সংলগ্ন হোটেল সী-গালের সামনের ফুটপাতে অজ্ঞাত আততায়ীর গুলিতে নিহত হন গোলাম রব্বানী টিপু।

হোটেল গোল্ডেন হিলের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ শফিক সাংবাদিকদের জানান, বৃহস্পতিবার সকালে গোলাম রব্বানী টিপুসহ তিনজন মিলে হোটেল আসেন। পরে তিনি হোটেলটির দুই কক্ষ বিশিষ্ট ৭০০৩ নম্বর ফ্ল্যাটে উঠেন। ফ্ল্যাটটির একটি কক্ষে গোলাম রব্বানী এবং অপর কক্ষে দুইজন অবস্থান করছিলেন।

সন্ধ্যার পর গোলাম রব্বানী টিপু হোটেল থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেননি বলে জানান

তিনি।

কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইলিয়াস খান জানান, এই ঘটনায় নিহত গোলাম রব্বানী টিপুর ভগ্নিপতি ইউনুস আলী শেখ কক্সবাজার সদর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। ইউনুস আলী শেখও একজন পুলিশ কর্মকর্তা। ময়নাতদন্ত শেষে লাশ নিয়ে গেছেন।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন