উখিয়ায় জাল খতিয়ান নিয়ে সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে ধরা, ভূমি অফিসে গিয়ে লাপাত্তা

উখিয়ায় জাল খতিয়ান নিয়ে সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে ধরা, ভূমি অফিসে গিয়ে লাপাত্তা

কক্সবাজারের উখিয়ায় জাল খতিয়ান ব্যবহার করে জমি রেজিস্ট্রি করার প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে এসে ছৈয়দ নূরু হোসেন নামে এক ব্যক্তি সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে ধরা পড়ার পর ভূমি অফিস থেকে কৌশলে লাপাত্তা হয়েছেন। এর আগে উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয় ও উপজেলা ভূমি অফিসের যৌথ যাচাইয়ে খতিয়ানটি জাল প্রমাণিত হলে তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার বিকেলে উখিয়া সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে জমি রেজিস্ট্রির অনুমোদন নিতে গেলে খতিয়ানটি নিয়ে সন্দেহ হয় সাব-রেজিস্ট্রার মোর্শেদ আলমের। পরে খতিয়ানটি যাচাইয়ের জন্য উপজেলা ভূমি অফিসে পাঠানো হয়। যাচাই-বাছাইয়ে খতিয়ানে স্বাক্ষরসহ বিভিন্ন তথ্য জালিয়াতির প্রমাণ পাওয়া যায় বলে নিশ্চিত করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আবু আবদুল্লাহ।

কৌশলে পালিয়ে যাওয়া ছৈয়দ নূরু হোসেন উপজেলার জালিয়াপালং ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ডেইলপাড়া এলাকার হাজী হোসেন আলীর ছেলে। তিনি যে খতিয়ানটি নিয়ে জমি রেজিস্ট্রির চেষ্টা করছিলেন, সেটির নম্বর ২৮৬৬ এবং মৌজা রত্নাপালং। ভূমি অফিসের যাচাইয়ে খতিয়ানটিতে করা কর্মকর্তাদের স্বাক্ষর জাল বলে প্রমাণ পাওয়া যায়।

আটকের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ছৈয়দ নূরু হোসেন দাবি করেন, কক্সবাজারের সাইদুর রহমান নামে এক ‘মুন্সি’র মাধ্যমে এই খতিয়ানটি তৈরি করানো হয়েছে।

এ বিষয়ে উখিয়া সাব-রেজিস্ট্রার মোর্শেদ আলম বলেন, জাল খতিয়ান দিয়ে জমি রেজিস্ট্রি করানোর চেষ্টা করা হচ্ছিল। খতিয়ানটি নিয়ে সন্দেহ হওয়ায় আমরা তা ভূমি অফিসে যাচাইয়ের জন্য পাঠাই। যাচাইয়ে জালিয়াতির বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে হেফাজতে নেওয়া হয়। বিষয়টি তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আবু আবদুল্লাহ জানান, সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে সাবেক সহকারী কমিশনার (ভূমি) সহ বিভিন্ন কর্মকর্তার স্বাক্ষর জালিয়াতি করে খতিয়ান তৈরি করে জমি রেজিস্ট্রির চেষ্টা করা হলে লোকটিকে ভূমি অফিসে নিয়ে আসা হয়।

তিনি আরও বলেন, পরবর্তীতে তিনি মুঠোফোনে কথা বলার অজুহাতে ভূমি অফিস থেকে বাইরে বের হন এবং আর ফিরে আসেননি। চলে যাওয়ার সময় তিনি সঙ্গে থাকা নিজের ছেলেকে সেখানে রেখে যান। আমরা বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ায় মোকাবিলার প্রস্তুতি নিচ্ছি।

ঘটনাটিতে উখিয়া থানায় একটি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। তদন্তের মাধ্যমে এই জাল খতিয়ান চক্র তৈরির সঙ্গে আরও কেউ জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন