আসন্ন ঈদুল আজহার আর মাত্র কয়েকদিন বাকি। উৎসবের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, বান্দরবান ও কক্সবাজারের সীমান্তবর্তী এলাকার পশুর বাজারগুলোতে ক্রেতা-বিক্রেতাদের ভিড় ততটাই উপচে পড়ছে। শেষ মুহূর্তের এই ব্যস্ততায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পাইকার ও খুচরা ক্রেতারা ছুটে আসছেন মনের মতো কোরবানির পশুর খোঁজে। তবে এবারের পশুর বাজারের চিত্র কিছুটা ভিন্ন। মিয়ানমার সীমান্ত হয়ে অবৈধভাবে আসা বিদেশি গরুতে সয়লাব হয়ে গেছে বান্দরবান ও পার্শ্ববর্তী কক্সবাজারের সীমান্ত এলাকার পশুর বাজারগুলো। অধিক মুনাফালোভী একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী ও ইজারাদারদের কারণে বাজারে বিদেশি গরুর দাপট ও সরবরাহ বেশি থাকলেও, সচেতন ক্রেতাদের পছন্দের শীর্ষ স্থান দখল করে রেখেছে পাহাড়ের দুর্গম অঞ্চলে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে ওঠা দেশি ‘পাহাড়ি গরু’।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বেশি লাভের আশায় চোরাই পথে আসা মিয়ানমারের গরুতে বাজার ভরে গেছে। কিন্তু এসব গরুর প্রতি ক্রেতাদের তীব্র অনীহা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। হাটে আসা সাধারণ ক্রেতা ও বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃত্রিম উপায়ে ইনজেকশন দিয়ে এবং ক্ষতিকর হরমোন প্রয়োগ করে মোটাতাজা করা এসব বিদেশি গরুর মাংস অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর, ঝুঁকিপূর্ণ ।
কৃত্রিম উপায়ে মোটাতাজা করা কিংবা ক্ষতিকর হরমোনযুক্ত বিদেশি গরুর চেয়ে ক্রেতাদের মূল আকর্ষণ এখন স্থানীয় পাহাড়ি গরুর দিকে। বাজারে আসা একাধিক সচেতন ক্রেতা জানান, পাহাড়ের বুকে সম্পূর্ণ উম্মুক্ত ও প্রাকৃতিক পরিবেশে লতাপাতা আর সবুজ ঘাস খেয়ে প্রাকৃতিকভাবেই বড় হয় এই দেশি গরু। ফলে এই গরুর মাংস সম্পূর্ণ নিরাপদ, পুষ্টিকর ও সুস্বাদু। সচেতন ক্রেতারা কোনোভাবেই কৃত্রিম উপায়ে ফোলানো ক্ষতিকর মাংস ঘরে নিতে চান না। আর এ কারণেই দাম কিছুটা বেশি হওয়া সত্ত্বেও ক্রেতারা নির্দ্বিধায় ঝুঁকছেন পাহাড়ি গরুর দিকেই।
পাহাড়ি চারণভূমিতে লালন-পালন হওয়া এসব গরুর চাহিদা বাড়ায়, স্থানীয় খামারিরা ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন এবং বেশ আনন্দিত। তবে সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে বিদেশি গরু প্রবেশ ঠেকাতে এবং স্থানীয় খামারিদের স্বার্থ সুরক্ষায় প্রশাসনের আরো কঠোর নজরদারি প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


ঈদে ৮ দিন সোনামসজিদ স্থলবন্দরে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ