ফেনীতে নিম্নমানের কাজেও সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী। ডাবল বিটুমিনাস সারফেস ট্রিটমেন্ট (ডিবিএসটি) পদ্ধতিতে ছাগলনাইয়া-মুহুরীগঞ্জ সড়ক সংস্কারের নামে কোটি টাকা লোপাটের অভিযোগ উঠেছে।
সড়ক ও জনপদ (সওজ) বিভাগের বাস্তবায়নে প্রায় ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে পরিচালিত এ প্রকল্পে চুক্তি অনুযায়ী দুই স্তরের কার্পেটিং করার কথা থাকলেও বাস্তবে নামমাত্র পাথর ছিটিয়ে কাজ শেষ করা হয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
স্থানীয় সূত্র ও সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কটির সংস্কারকাজে ১৪মিলিমিটার ও ১০মিলিমিটার আকারের পাথরের দুই স্তরবিশিষ্ট কার্পেটিং করার কথা ছিল। তবে কাজের দায়িত্ব পাওয়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ক্রিয়েটিভ ডিজাইন নিম্নমানের বিটুমিন স্প্রে করে পাথর স্থাপন করলেও সেগুলো অল্প সময়ের মধ্যেই সড়ক থেকে ওঠ গেছে। ফলে সংস্কারের পরও সড়কটি ব্যবহারকারীদের জন্য ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এর আগে, কাজের মান নিয়ে অভিযোগ উঠলে ফেনী সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীতি চাকমা বলেন, ফেনীতে প্রথমবারের মতো পরীক্ষামূলকভাবে ডিবিএসটি পদ্ধতিতে এ কাজ করা হচ্ছে। তার ভাষ্য ছিল, এ পদ্ধতিতে কাজ করলে ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ পাথর ছিটকে পড়তে পারে। তবে কাজটি টেকসই হবে বলেও তিনি দাবি করেন।
এরপর ঠিকাদার প্রতিনিধি ও সওজ কর্মকর্তারা সড়কে পুনরায় কার্পেটিং করার আশ্বাস দিলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি বলে দাবি স্থানীয়দের।
সম্প্রতি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে সড়কে সাদা রঙ দিয়ে রোড মার্কিংয়ের কাজ শুরু হলে স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে ক্ষোভ দেখা দেয়।
স্থানীয়রা শ্রমিকদের কাছে জানতে পারেন, সংস্কারকাজ শেষ হয়েছে। এ সময় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর প্রতিক্রিয়ার মুখে রোড মার্কিংয়ের কাজে নিয়োজিত শ্রমিকরা সেখান থেকে চলে যান।
সড়ক সংস্কারের নামে ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্টদের যোগসাজশে রাষ্ট্রের অর্থ অপচয়ের অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে স্থানীয় সংসদ সদস্য মুন্সি রফিকুল আলম মজনু জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর তিনি সওজের নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা বলেছেন। কাজ সঠিকভাবে সম্পন্ন হওয়ার আগে ঠিকাদারকে বিল পরিশোধ না করার নির্দেশনাও দিয়েছেন।
শনিবার ছাগলনাইয়া-মুহুরীগঞ্জ সড়ক পরিদর্শন করেন সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীতি চাকমা। পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি কাজের মান নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন।
এসময় তিনি বলেন, ফেনীবাসী এ পদ্ধতির কাজ আগে দেখেনি বিধায় অভিযোগ করছে। তবে আমি কাজের মান নিয়ে সন্তুষ্ট।
নিম্নমানের কাজের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কাজের ক্ষেত্রে কিছু ত্রুটি থাকতেই পারে। এটা নিয়ে হইচই করার কারণ দেখছি না।
ঠিকাদারের সঙ্গে তিন বছরের চুক্তির বিষয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, আগামী তিন বছরের মধ্যে সড়কে কোনো সমস্যা দেখা দিলে ঠিকাদারকে তা পুনরায় সংস্কার করতে হবে।
এদিকে নির্বাহী প্রকৌশলীর এ বক্তব্য স্থানীয় একটি ডিজিটাল প্লাটফর্মে প্রচারের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার ঝড় ওঠে। অনেকেই এ মন্তব্যে কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
এ ব্যাপারে ছাগলনাইয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ ফারহানা পৃথা বলেন, স্থানীয়রা সড়ক সংস্কারকাজে অনিয়মের অভিযোগ জানিয়েছেন।বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
এমই
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

