ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ঢামেক) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের এমবিবিএস প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের একাডেমিক সহযোগিতার অংশ হিসেবে বিনামূল্যে বোনস সেট (মানব কঙ্কাল) বিতরণ করা হয়েছে।
রোববার কলেজের এক নম্বর লেকচার গ্যালারিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ১৭৪ জন শিক্ষার্থীদের মাঝে ৫৮টি সেট বোনস বিতরণ করা হয়েছে। ডিএমসি বোনস ব্যাংক ২৫-২৬ প্যানেলের উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানটি আয়োজিত হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঢামেকের এনাটমি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. এ এইচ এম মোস্তফা কামাল, হেপাটোলজী বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. এ বি এম শাকিল গনি, শিশু সার্জারী বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. আব্দুল হানিফ টাবলু, ফিজিওলজী বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. শাহানারা ইয়াসমিন, কোলোরেক্টাল সার্জারি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. মো. আহসান হাবিব এবং এনাটমি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. তুনাজ্জিনা কাওসার। এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঢামেকের প্রথম বর্ষ থেকে শুরু সকল ব্যাচের শিক্ষার্থীরা।
আয়োজকরা জানান, শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে পরিচালিত ডিএমসি বোনস ব্যাংক নবাগত শিক্ষার্থীদের এনাটমি শিক্ষার প্রয়োজনীয় উপকরণ সহজলভ্য করতে কাজ করছে। শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতরণ করা এই বোনস সেটের উৎস ঢামেকসহ দেশের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীদের দান করা বোনস। এবছর এটি দ্বিতীয়বারের মতো আয়োজন করা হয়। এবার নবাগত শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রতিটি বোনস সেট তিনজন শিক্ষার্থীকে গ্রুপ করে ব্যবহার করার জন্য দেওয়া হয়েছে।

ডিএমসি বোনস ব্যাংকের ট্রেজারার ও রিপ্রেজেন্টেটিভ মো. হাফিজুর রহমান বলেন, মেডিকেল শিক্ষার শুরুতেই অ্যানাটমি শেখার জন্য বোনস সেট একটি অত্যন্ত জরুরি ও ব্যয়বহুল উপকরণ। দেশে মানব কঙ্কাল সংগ্রহ ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত একটি সংঘবদ্ধ চক্র রয়েছে। তারা অবৈধভাবে কবর থেকে চুরি করা বোনস মোটা দামে শিক্ষার্থীদের কাছে বিক্রি করে। দেখা গেছে, একটি কঙ্কালের দাম ৩০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ৫০/৬০ হাজার টাকা। ফলে অনেক শিক্ষার্থীর পক্ষেই এটি সংগ্রহ করা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। এছাড়াও মেডিকেল শিক্ষায় মানব কঙ্কাল ব্যবহার ও কেনাবেচার এই প্রচলিত ব্যবস্থা নৈতিক ও ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে প্রশ্নবিদ্ধ। অতীতে ক্যাম্পাসে বোনস ক্রয়-বিক্রয়কে কেন্দ্র করে যে অনাকাঙ্ক্ষিত সংস্কৃতি গড়ে উঠেছিল, বোনস ব্যাংকের মাধ্যমে তা নিরুৎসাহিত করতেই আমারদের এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা।
তিনি বলেন, মূলত মেডিকেল শিক্ষায় মানবকঙ্কাল সংশ্লিষ্ট অনৈতিক চর্চার এই ধারা থেকে বেরিয়ে আসতে এবং একাডেমিক সংকট দূর করতে বোনস ব্যাংক কাজ করে যাচ্ছে। ভবিষ্যতে এই কার্যক্রমের পরিধি আরও বাড়ানোর প্রত্যাশা আমাদের রয়েছে; প্রকৃত মানবকঙ্কালের পরিবর্তে আর্টিফিশিয়াল মডেল ব্যবহারের মাধ্যমে শেখার প্রচলন শুরুর এবং প্রকৃত মানবকঙ্কালগুলো কে যথাযথভাবে দাফন করে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এজন্য সকল শিক্ষার্থীর সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
ঢামেকের আরেক শিক্ষার্থী জাওয়াদ মুবাশশীর ত্বহা বলেন, মানবদেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে পণ্য হিসেবে ব্যবহারের পরিবর্তে সংরক্ষণ, দায়িত্বশীল ব্যবহার এবং পরবর্তী প্রজন্মের কাছে হস্তান্তরের একটি টেকসই ব্যবস্থা গড়ে তুলতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত বছর থেকে শুরু হওয়া এই উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় এবারও নতুন শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

