বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’-এর কল ও লিখিত অভিযোগের তদন্তে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন থানা পুলিশের সদস্যরা।
সরকারি কাজে বাধা প্রদান, নথিপত্র ছিঁড়ে ফেলা এবং ধারালো অস্ত্র নিয়ে পুলিশকে আক্রমণের চেষ্টার ঘটনায় স্বামী-স্ত্রীকে দেশীয় অস্ত্রসহ আটক করেছে নাইক্ষ্যংছড়ি থানার পুলিশ।
রোববার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের মসজিদঘোনা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আটক ব্যক্তিরা হলেন— নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়নের মসজিদঘোনা এলাকার খালেকুজ্জামানের ছেলে জাফর আলম (৫৭) এবং তার স্ত্রী দিল নূর বেগম (৪০)।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রোববার সকালে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে মসজিদঘোনা এলাকার রফিকুল ইসলাম (২৫) নামে এক যুবক জানান যে, জমি ও পারিবারিক বিরোধের জেরে জাফর আলম, তার স্ত্রী দিলনূর বেগম, ছেলে আরিয়ানসহ কয়েকজন তাকে ধারালো রামদা দিয়ে কুপিয়ে জখম করে আটকে রেখেছেন।
তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি নাইক্ষ্যংছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জকে জানানো হলে তার নির্দেশে পুলিশের একটি মোবাইল টিম ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা দেয়। ভুক্তভোগী যুবক থানায় গিয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগও দায়ের করেন।
বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৫টার দিকে পুলিশের তদন্তকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছালে বিবাদী জাফর আলম, দিলনূর বেগম ও আরিয়ান পুলিশ দেখেই চরম উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। পুলিশের উপস্থিতি নিয়ে বাগ্বিতণ্ডা শুরু করে একপর্যায়ে তারা দলবদ্ধভাবে পুলিশ সদস্যদের অবরুদ্ধ করার চেষ্টা চালান এবং দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের ওপর অতর্কিত হামলা ও টানা-হেঁচড়া করেন। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে আসামিরা বাদীর লিখিত অভিযোগপত্রটি ছিনিয়ে নিয়ে ছিঁড়ে ফেলেন এবং পুলিশের অফিশিয়াল ক্লিপবোর্ড ভেঙে ফেলেন। একপর্যায়ে দিলনূর বেগম ও তার ছেলে আরিয়ান রামদা উঁচিয়ে পুলিশ সদস্যদের দিকে তেড়ে আসেন।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রাণহানি এড়াতে পুলিশ সদস্যরা কৌশলগতভাবে কিছুটা দূরে নিরাপদ স্থানে অবস্থান নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করেন।
খবর পেয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি থানা থেকে দ্রুত অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় স্থানীয় সাক্ষীদের উপস্থিতিতে হামলাকারীদের হেফাজতে থাকা ধারালো রামদা ও বঁটি উদ্ধার করে জব্দ করা হয় এবং ঘটনাস্থল থেকে জাফর আলম ও তার স্ত্রী দিলনূর বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে অভিযানের সুযোগে অপর অভিযুক্ত আরিয়ান পালিয়ে যান।
হামলায় আহত পুলিশ সদস্যরা নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন।
নাইক্ষ্যংছড়ি থানার পুলিশ জানায়, সরকারি কাজে বাধা প্রদান, পুলিশ সদস্যদের ওপর সশস্ত্র হামলা, জখম এবং অফিশিয়াল নথিপত্র বিনষ্টের অভিযোগে আটককৃতদের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অপর পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এমএইচ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

