একধিক ভুয়া মৃত্যু সনদ ও ওয়ারিশ সনদ বানিয়ে জমি দখল করে নিজেদের সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করে পুরো পরিবারকে ১০ বছর ধরে বাড়ির বাইরে রাখার অভিযোগ উঠেছে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের গাংরা গ্রামের নুরুল ইসলাম ফারুকীর স্ত্রী ও চার সন্তানের বিরুদ্ধে। তাদেরকে সম্পূর্ণ সহায়তা করার অভিযোগ রয়েছে জগন্নাথদিঘী ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান সাহিদুল ইসলাম চৌধুরীর বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগী একই ইউনিয়নের কাককরা গ্রামের বাসিন্দা মো. মনিরুল ইসলাম ও তার পরিবার বাজারে একটি ভাড়া বাসায় দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছেন। নিজের বাড়ি ও ঘর থাকার পরেও অভিযুক্তদের অত্যাচার ও মারধরের শিকারে বাধ্য হয়ে ভাড়া বাসায় থাকতে হচ্ছে তাদের। মায়ের ওয়ারিশ সম্পত্তি ও নিজের ভাগের পৈত্রিক সম্পত্তির কোন অংশ না দিয়ে উলটো মারধর করে তাদেরকে বাড়ি থেকে বের করে দেন অভিযুক্তরা।
অভিযুক্তরা হলেন, নুরুল ইসলাম ফারুকীর ছেলে মো. সাইফুল ইসলাম অভি (৩২), মেয়ে আসমা আক্তার (৪০), নাজমা আক্তার (৩৬), মোসা. আকলিমা আক্তার (৪৩) ও স্ত্রী নুরের নাহার (৫৮)।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নুরুল ইসলাম ফারুকীর মৃত্যুর পর তার মা, স্ত্রী ও চার সন্তানকে ওয়ারিশ রেখে গেলেও মা বেগম বিয়াকে বঞ্চিত করে মৃত্যু সনদ ও ওয়ারিশ সনদ জালিয়াতি করে তার স্ত্রী ও সন্তানরা সকল সম্পত্তি নিজেদের মতো করে নাম জারি ও দলিল করে নেয়।
যে কারণে মায়ের সম্পত্তির ভাগ থেকে বঞ্চিত হয় বাকি সন্তানরা। যার মধ্যে ছোট ছেলে মনিরুল ইসলাম ও মেয়ে সখিনা খাতুনের ওয়ারিশরা অন্তর্ভুক্ত। নিজের সম্পত্তির ভাগ থেকে বঞ্চিত হওয়ার কারণে দীর্ঘ দশ বছর নিজ বাড়ি থেকে বাইরে আছেন মনিরুল ইসলামের পরিবার।
এ ঘটনায় নুরুল ইসলাম ফারুকীর মায়ের ওয়ারিশ সম্পত্তি ফিরে পেতে তার ভাই মনিরুল ইসলামের ছেলে নুরুল আফসার বাদী হয়ে অভিযুক্তদের আসামি করে কুমিল্লা আদালতে ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মামলার বাদী নুরুল আফসার অভিযুক্ত পরিবারের মৃত নুরুল ইসলাম ফারুকীর ছোট ভাই তথা ১ নং সাক্ষীর ছেলে। বাদীর জেঠা মারা যাওয়ার সময় তার দাদী, জেঠি, এক জেঠাতো ভাই ও তিন জেঠাতো বোনকে ওয়ারিশ রেখে যান। ওয়ারিশ অনুযায়ী মৃত নুরুল ইসলাম ফারুকীর সম্পত্তিতে তার মায়ের অংশ রয়েছে। সেই অংশের ভাগ না দেওয়ার জন্য আসামিরা তিন ধাপে সকল সম্পত্তি তাদের দখলে নিয়া যায়। ২০১২ সালের ১৯ আগস্ট তারা মিথ্যা তথ্য দিয়ে জাল ওয়ারিশ সনদ সৃজন করে। ২০২৩ সালের ১৭ অক্টোবর সেই মিথ্যা সনদ ব্যবহার করে খারিজি খতিয়ান তৈরি করে। ২০২৪ সালের ২১ মার্চ তারা বেগম বিয়া থেকে প্রাপ্ত সম্পত্তি তৃতীয় ব্যাক্তির নিকট হস্তান্তর করে।
এ বিষয়ে ঘটনা সম্পর্কে জানে এবং সালিসে উপস্থিত ছিল এমন ১০ জনের সাথে কথা বললে সকলেই ১-৪ নং আসামিদের পিতা ও ৫ নং আসামির স্বামী নুরুল ইসলাম ফারুকীকে দোষি করেন এবং ফারুকীর অপরাধের সুযোগ পেয়ে আসামিরা সেই সম্পত্তির জাল সনদ করার সাহস পায় বলে অভিযোগ করেন।
ভুয়া জাল সনদে মা বেগম বিয়ার মৃত্যু সনদ আগে ও ছেলে নুরুল ইসলাম ফারুকীর মৃত্যু সনদ পরে দেখিয়ে সম্পত্তি ভাগিয়ে নেয় আসামিপক্ষ।
প্রকৃতপক্ষে যারা কবর খননকারী, বেগিম বিয়ার ব্যাক্তিগত সেবিকা ও স্থানীয় কয়েকজনের সাথে কথা বলে জানা যায়, মায়ের আগে তাঁর ছেলের মৃত্যু হয়। নুরুল ইসলাম ফারুকী মারা যায় ২০২২ সালের আগস্ট মাসের ২২ তারিখ ও তাঁর মা বিয়া মারা যান ২০২৩ সালের মার্চ মাসের ৩০ তারিখ। যা থেকেই বুঝা যায় যে, আসামিপক্ষ ভুয়া সনদ বানিয়ে, জোরপূর্বক ভুক্তভোগী মনিরুল ইসলামের পরিবারকে ভিটেছাড়া করে রেখেছে।
মনিরুল ইসলামের পরিবারের দাবি, প্রশাসন সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত মালিকদের হাতে সম্পত্তি বুঝিয়ে দেয়া হোক ।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে চৌদ্দগ্রাম জগন্নাথদিঘী ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান সাহিদুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সমাধানের চেষ্টা করা হয়েছে । কিন্তু কোন পক্ষই ছাড় দিতে রাজি নয় । এছাড়া আমি কোন ভুয়া সনদ বানাইনি । আমার আগের চেয়ারম্যান বানিয়ে থাকলে এটা আমার দেখার বিষয় না ।
চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. নুরুল আমিন বলেন, ভুয়া সনদ বানিয়ে জালিয়াতি করে থাকলে ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে । আমি শীঘ্রই তাকে ডেকে বিস্তারিত জানবো ।
জেডএম
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

