বান্দরবানে জলবায়ু পরিবর্তন প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। পাহাড়ের দুর্গম জনপদে তৃষ্ণার্ত মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে নেওয়া হয়েছিল লজিক প্রকল্প। লক্ষ্য ছিল সৌরশক্তি ব্যবহার করে বাসিন্দাদের সুপেয় পানির কষ্ট দূর করা। কিন্তু উদ্বোধনের মাত্র কয়েক মাস যেতে না যেতেই সেই স্বপ্ন এখন ধ্বংসস্তূপ। সামান্য বাতাসেই মাটির সঙ্গে মিশে গেছে ৭৭ লাখ টাকার সরকারি সম্পদ। দুর্গম টংকাবতীর এম্পুপাড়ায় এলজিইডির এই প্রকল্প ঘিরে এখন বড় সমস্যা হয়ে দেখা দিয়েছে দুর্নীতি।
বান্দরবান জেলা শহর থেকে ২৮ কিলোমিটার দূরে টংকাবতী ইউনিয়নের এম্পুপাড়া এলাকা। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় ইউএনডিপি ও ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ আন্তর্জাতিক দাতাদের অর্থায়নে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এখানে একটি সৌরচালিত পানি শোধনাগার নির্মাণ করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ (এলজিইডি)। কিন্তু এক বছর পার হওয়ার আগেই প্রকল্পটি এখন দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রকল্পের পরতে পরতে রয়েছে অনিয়মের ছাপ। স্থানীয়দের অভিযোগ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রিপন অ্যান্ড ব্রাদার্স কাজটি পেলেও তা বারবার হাতবদল হয়েছে। দফায় দফায় মধ্যস্বত্বভোগী পরিবর্তন হওয়ার ফলে প্রকল্পের মূল বাজেটের বড় একটি অংশই চলে গেছে কমিশন বাণিজ্যে। যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে নির্মাণের মানে।
রুইপুইপাড়ার বাসিন্দা মেনরয় ম্রো ও মেনসাই ম্রো আক্ষেপ করে জানান, অবকাঠামো রক্ষায় যেখানে শক্তিশালী লোহার রড ব্যবহারের কথা, সেখানে ব্যবহার করা হয়েছে সিমেন্টের নড়বড়ে খুঁটি। এমনকি সোলার প্যানেল স্থাপনের জন্য যে গভীরতা প্রয়োজন ছিল, তাও নিশ্চিত করা হয়নি। চরম অবহেলায় প্রকল্পটি স্থাপন করা হয়েছে পাহাড়ের একেবারে ঝুঁকিপূর্ণ কিনারায়। ফলে প্রকৃতির সামান্য রুদ্ররূপেই ধসে পড়েছে পুরো আয়োজন।
এএস
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

