সুনামগঞ্জে ধান শুকাতে ব্যস্ত কৃষান-কৃষানি

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি

সুনামগঞ্জে ধান শুকাতে ব্যস্ত কৃষান-কৃষানি

টানা বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়া শেষে সুনামগঞ্জের হাওরে রোদের দেখা মিলেছে। ভেজা ধান রোদ পোহাতে খলায় খলায় ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষান-কৃষানি।

সরজমিনে হাওরে গিয়ে দেখা যায়, কৃষকেরা সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কে ধান বিছিয়ে রোদে শুকাচ্ছেন। হাওরের পাশে খলায় খলায় নারী, পুরুষ ধান শুকাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

বিজ্ঞাপন

দেখার হাওরের কৃষক দিলাল মিয়া জানান, হাওরে রোদ উঠেছে। ভেজা ধান শুকাচ্ছি। অনেক ধানে পচন ধরেছে। কয়েকদিন রোদ হলে খরচের টাকা তুলতে পারতাম। আরও ১১ কেদার জমি পানির নীচে রয়েছে। সেই জমির ধান নষ্ট হয়ে গেছে। কি করে সংসার চালাই জানিনা।

গবিনপুর গ্রামের কৃষক সামরান মিয়া জানান, আকাশে কড়া রোদ। এখন খুশিতে খলায় ধান শুকাচ্ছি। কিন্তু শঙ্কা কাটেনি।ধানের রং নষ্ট হয়ে গেছে। কিছু ধান রক্ষা পেলেও দারদেনা পরিশোধ করতে পারবনা। এখনও খোরাকির ধান ঘরে উঠেনি। কিভাবে বছরটা চালাবো মাথায় ধরে না।

হাওরে ধান শুকাতে খলায় পা দিয়ে নড়াচড়া করছেন রহিম উদ্দিন। মাঝে মাঝে আকাশের দিকে তাকাচ্ছেন। তিনি বলেন, এবার ১০ কেদার বোর জমি চাষ করেছি। ৫ কেদার জমি কেটেছি। ধানে পচন ধরেছে। কিছু ধান ভালো আছে। রোদ উঠায় খলায় ধান শুকাচ্ছি। এভাবে কটা দিন রোদ হলে কিছুটা কষ্ট লাঘব হতো।

কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, হাওরে ২ লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর বোরো আবাদ হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৪ লাখ মেট্রিক টন। যার বাজার মুল্য প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা। হাওর ও নন হাওরে ধান কর্তন হয়েছে ৬২ শতাংশ। ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ২০ হাজার হেক্টর।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ওমর ফারুক জানান, হাওরে ভেজা ধান শুকানোর জন্য মিল মালিকদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। রোদে হাওরের কৃষকরা ধান শুকাচ্ছেন। পাকা ধান দ্রুত কাটতে কৃষকদের আমরা পরামর্শ দিচ্ছি।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার জানান, আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী সুনামগঞ্জে এখনো বন্যার শঙ্কা আছে৷ আরও দুদিন ভারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনাও রয়েছে৷ টানা বৃষ্টি হওয়ায় কাঁধগুলোও দুর্বল হয়ে পড়ছে৷ আমাদের সকল কর্মকর্তা কর্মচারীদেরকে সার্বক্ষণিক বাঁধে থাকার জন্য বলা হয়েছে৷ চারদিকে আমরা খোঁজ-খবর রাখছি।

এএস

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন