কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পন্ন: এসআরবি

প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত চট্টগ্রাম নগরী: চসিক মেয়র

প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত চট্টগ্রাম নগরী: চসিক মেয়র
ছবি: আমার দেশ

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, দেশের ইতিহাসে দেশের প্রথম কোনো প্রধানমন্ত্রী আগামী ২০ অক্টোববর চট্টগ্রাম শহরে পূজার উৎসবে আসছেন। তার আগমনকে ঘিরে ইতিমধ্যে নগরে সাজ সাজ রব বইছে। তাকে বরণ করে নিতে পুরো চট্টগ্রাম প্রস্তুত রয়েছে। আমরা জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রধামন্ত্রী তারেক রহমানকে সাধর সম্ভাষণ জানাব। প্রধানমন্ত্রীর আগমননকে ঘিরে সব আয়োজন ইতিমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে।

শনিবার বেলা ১১টায় নগরীর জেএম সেন হল পূজামন্ডপ পরিদর্শন শেষে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় চসিক মেয়র বলেন, ২০ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী সন্ধ্যা ৬টায় চট্টগ্রামের এসে পৌঁছাবেন। এরপর তিনি জেএম সেন হলের পূজামন্ডপে আসবেন। সনাতনী সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, বিএনপি সবসময় সনাতনী সম্প্রদায়ের সঙ্গে ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। চট্টগ্রামকে একটি সাম্যের শহর, সৌহার্দ্যের শহর হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। তারই বার্তা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামে আসছেন।

এ সময় পূজামন্ডপটি পরিদর্শন করেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান। তিনি বলেন, সনাতনী সম্প্রদায়ের মানুষ আজ আনন্দে আত্মহারা। শারদীয় দুর্গা উৎসবে এবার নবমীর দিনে তাদের সঙ্গে সামিল হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পাশাপাশি চট্টগ্রামের সাধারণ মানুষও তাকে একনজর দেখতে মুখিয়ে আছে। আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি শেষ করেছি। তিনি যেন শান্তিপূর্ণভাবে পূজামন্ডপে এসে চট্টগ্রামের সনাতনী সম্প্রদায়কে শুভেচ্ছা জানাতে পারেন। সেই লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন, মহানগর যুবদলের সভাপতি মোশাররফ হোসেন দীপ্তি, চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী আশরাফুল আমিন, প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান সোহেল, চট্টগ্রাম মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অর্পণ কান্তি ব্যানার্জি, সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট নিখিল কুমার নাথ, মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি সৌরভ প্রিয় পাল প্রমুখ।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটেলিয়ন (এসআরবি) ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ, জেলা প্রশাসনের একাধিক টিম শনিবার সকালে জেএম সেন হল পূজা মন্ডপ পরিদর্শন করেছে। পূজামন্ডপটির নিরাপত্তা বাড়ানোসহ সিসি ক্যামেরা স্থাপন, বিভিন্ন প্রবেশ পথে নজরদারি বাড়ানোতে কাজ করছে তারা। একইসাথে বিএনপি বিভাগীয় ও মহানগর নেতারাও কয়েক দফায় পূজামন্ডটটি পরিদর্শন করেছেন। শনিবার সকালে চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক ও বিএনপির বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম, চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য ও নগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহ, সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান পূজামন্ডপ পরিদর্শন করেন।

শনিবার সকালে এসআরবি-৭ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, পর্যাপ্ত গোয়েন্দা ও আভিযানিক দল কাজ করে যাচ্ছে। জনসাধারণকে সাথে নিয়ে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে প্রস্তুত এসআরবি। যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্খিত ঘটনার আশঙ্কা হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সঙ্গে সঙ্গে জানানোর আহ্বান জানাচ্ছি। একই সঙ্গে এই উৎসব যেন আনন্দঘন ও নির্বিঘ্ন থাকে সেজন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

আমরা চাই চট্টগ্রামের সকল পূজামন্ডপে ভক্তরা শান্তিপূর্ণভাবে পরিবার-পরিজন নিয়ে পূজা উপভোগ করবেন এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশে এই উৎসব শেষ হবে। পারস্পরিক সহনশীলতা, শ্রদ্ধা, সহযোগিতা এবং সৌহার্দ্য বজায় রাখলে আমরা যেকোন ধরনের অপশক্তিকে প্রতিহত করতে পারব। তিনি জানান, পূজা চলাকালিন সাদা পোশাকে গোয়েন্দা দল, টহল দল নিয়োজিত থাকবে। আমাদের পক্ষ থেকে পর্যান্ত জনবল নিয়োজিত করা হয়েছে। কয়েক স্তরের নিরাপত্তা গ্রহণসহ সব ধরনের প্রস্তুতি আমাদের রয়েছে। এমএইচ

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন