রাউজানে সিরাজউদ্দৌলা দুলাল (৭৫) নামের এক ব্যক্তির কাফনের কাপড়ে রক্তের দাগ দেখা যাওয়ায় দাফন করতে দেয়নি স্থানীয়রা। পরে পুলিশ এসে লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে লাশ ময়নাতদন্তের জন্যে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
এর আগে চট্টগ্রাম নগরীর মোহাম্মদপুর এলাকার সুন্নিয়া মাদ্রাসা সংলগ্ন বাসায় রোববার সকাল ৬টার দিকে তিনি মারা যান। তবে স্বজনরা তার স্বাভাবিক মৃত্যু বলে প্রচার চালিয়ে দুপুর ২টায় লাশ রাউজানে আনেন।
ঘটনাটি ঘটে রাউজান উপজেলার পূর্বগুজরা ইউনিয়নের আধারমানিক গ্রামের ননা হাজী তালুকদার বাড়িতে। তিনি ওই এলাকার মৃত আব্দুস সাত্তারের ছেলে। তাদের গ্রামের বাড়ি রাউজানে হলেও দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রাম নগরীতে বসবাস করেন।
জানা যায়, লাশ শহর থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে রাউজানে আনা হয়। তবে তার লাশ গাড়ি থেকে নামাতে আপত্তি জানান লাশের সঙ্গে আসা স্বজনরা। পরে ঘরে নিয়ে গেলে মাথায় আঘাতের চিহ্ন ও রক্ত দেখা যায়। তখনই সন্দেহ করে স্থানীয়রা। যার কারণে আসরের নামাজের পর জানাজার প্রস্তুতি নিলেও স্থানীয়রা জানাজা করতে দেয়নি।
স্থানীয়রা জানান, আমরা লাশের চেহারা দেখতে গিয়ে দেখি তার মাথায় কোপের আঘাত। আমাদের সন্দেহ হয়। তাই লাশ দাফন না করে পুলিশকে খবর দিয়েছি।
নিহতের স্ত্রী জাহেদা বেগম (৬৫) বলেন, তার স্বামীর স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। তিনি স্ট্রোকে মারা গেছেন।
মৃত্যুর ২দিন আগে তিনি আঘাতপ্রাপ্ত হন। এছাড়া তার শরীরের একাধিক স্থানে আঘাতের চিহ্ন আছে।
তার মেয়ে জেনি আকতার বলেন, আমি কিচ্ছু জানি না বাবা কীভাবে মারা গেছেন। আমি মারা যাওয়ার পরে এসেছি।
রাউজান থানার উপ-পরিদর্শক সাদ্দাম হোসেন ঘটনাস্থলে বলেন, লাশের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ধারণা করছি মাথায় কোপ দেওয়া হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে বিস্তারিত জানা যাবে।
জানা যায়, নিহত বৃদ্ধ সিরাজউদ্দৌলা দুটি বিয়ে করেন। প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে ডিভোর্স হওয়ার পরে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। প্রথম ঘরে দুটি মেয়ে আছে। তবে তাদের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই। দ্বিতীয় ঘরে স্ত্রী ও এক ছেলে এক মেয়ে আছে।
এমএইচ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

