ভোগান্তি চরমে

বাঁশখালীর পুঁইছড়ী-ছনুয়া সড়কের বেহাল দশা

বাঁশখালীর পুঁইছড়ী-ছনুয়া সড়কের বেহাল দশা
বাঁশখালীর পুঁইছড়ী-ছনুয়া সড়ক। ছবি: আমার দেশ

দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় দক্ষিণ বাঁশখালীর পুঁইছড়ী প্রেমবাজার থেকে ছনুয়া জেটি ঘাঁট পর্যন্ত পুঁইছড়ী-ছনুয়া সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বেশির ভাগ স্থানেই কার্পেটিং উঠে সড়কে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্তের। ফলে মাটি কাদায় মিশ্রিত সড়কে যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে সড়কটি। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এ সড়ক দিয়ে চলাচল করছে ছনুয়া, পুঁইছড়ী, শেখেরখীল ও কুতুবদিয়া দ্বীপে যাতায়াতকারী অসংখ্য মানুষ । বন্যাদুর্গত এলাকা হিসেবে পরিচিত ছনুয়া, খুদুকখালী ও ছেলবনে মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে উপজেলা সদর থেকে যাতায়াত করছে ত্রানের গাড়িগুলো। বেহাল এই সড়কে প্রায়ই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।

সড়কের বেহাল দশার কথা স্বীকার করে পুঁইছড়ী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান তারেকুর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার জানানো হয়েছে। আশা করছি শীঘ্রই সংস্কার হবে।

বিজ্ঞাপন

বাঁশখালীর দক্ষিণ সীমান্তবর্তী ইউনিয়ন পুঁইছড়ি এবং দক্ষিণ পশ্চিমে অবস্থিত ছনুয়া ইউনিয়ন। নানা কারণে ও অর্থনৈতিক দিক দিয়ে এই ইউনিয়নগুলো স্বাবলম্বী হলেও যোগাযোগ ব্যবস্থায় অনেকটা পিছিয়ে। তার অন্যতম হলো পুঁইছড়ি ছনুয়া সংযোগ সড়কটি। সড়কটি পুঁইছড়ি ও ছনুয়াবাসীর চেয়েও সাগর দ্বীপ কুতুবদিয়াবাসীর যাতায়াতেরও বিকল্প সড়ক।

দীর্ঘদিন যাবৎ সংস্কার না হওয়ায় সড়কটির বর্তমানে করুণ দশা হয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা ও উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে এ সড়কটি সংস্কারের জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে ও টেন্ডার আহবান করা হয়েছে বলা হলেও বর্তমান মৌসুমে তার কাজ হবে কিনা সেটা সন্দিহান পুঁইছড়ি ও ছনুয়ার সাধারণ জনগণের । সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সড়কের অধিকাংশ স্থানে বিশাল বিশাল গর্ত ও পানি জমে আছে। ফলে সাধারণ জনগণকে এই সড়ক দিয়ে যাতায়াতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এ ছাড়া হাতে গোনা দুয়েকটি সিএনজি চলাচল করলেও অধিকাংশ গাড়ি বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ভেঙে যাওয়ায় সড়ক দিয়ে চলাচল করতে রাজি হয় না। এ ব্যাপারে ছনুয়া ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নুরুল আমীন ছানুবী বলেন, রাস্তাটি খুবই জনগুরুত্বপূর্ণ।

এই বিবেচনা করে উপজেলা সমন্বয় সভায় সড়ক সংস্কারের ব্যাপারে আলোচনার প্রেক্ষিতে হয়তো অল্প কিছুদিনের মধ্যেই সড়ক সংস্কার কাজের আরম্ভ করতে পারে প্রকৌশল অধিদপ্তর।

গাড়ি চালকরা জানালেন, এ সড়কে গাড়ি চালাতে হিমশিম খেতে হয় তাদের। সড়কজুড়ে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় প্রতিনিয়ত নষ্ট হচ্ছে যানবাহন। ফলে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন তারা।

ট্রাকচালক আল আমিন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এই সড়কে যে পরিস্থিতি তাতে আমাদের গাড়ির চাকাও শেষ, মাজাও শেষ। যে পরিমাণ রাস্তা ভাঙা এতে গাড়ি চালাতে গিয়ে এখন আমাদের খুবই সমস্যায় পড়তে হয়। রাস্তাটি দ্রুত মেরামতের জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।

অটোরিকশাচালক মনির বলেন, রাস্তা খারাপের কারণে এই সড়কে গাড়ি চালাতে আমাদের ভীষণ কষ্ট হয়। প্রতিনিয়ত গাড়ির যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়। যা ইনকাম করি তা গাড়ির পেছনেই চলে যায়। গাড়ি চালাতে হিমশিম খেতে হয় আমাদের।

ছনুয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা হোসাইন, ফজলুল কাদের, আবদু ছোবহান ও বোরহান উদ্দিন চৌধুরী মিজান অধিক জনগুরুত্বসম্পন্ন এই রাস্তাটি দ্রুত সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

তাদের মতে, পুঁইছড়ি, ছনুয়া ও কুতুবদিয়া উপজেলার অন্তত চারটি ইউনিয়নের লোকজন যাতায়াত করেন এ রাস্তা দিয়ে। সরলিয়া বাজার ও ছনুয়া মনু মিয়াজী বাজারের সমস্ত মালামাল আছে এই রাস্তা দিয়ে। ও কুতুবদিয়া উপজেলার কাঁচা মালামাল ও নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য এই রাস্তা দিয়েই আসে।

এমএইচ

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন