গণরায় নিয়ে টালবাহানা করলে জনরোষের বিস্ফোরণ অনিবার্য: এটিএম মাসুম

চট্টগ্রাম ব্যুরো

গণরায় নিয়ে টালবাহানা করলে জনরোষের বিস্ফোরণ অনিবার্য: এটিএম মাসুম

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মাসুম বলেছেন, জনগণের দেওয়া গণরায় বাস্তবায়নে বিলম্ব, টালবাহানা কিংবা অস্বচ্ছতা নিয়ে দেশের বিভিন্ন মহলে উদ্বেগ ও অসন্তোষ বাড়ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি এবং সাধারণ জনগণের একাংশ মনে করছেন, জনগণের স্পষ্ট মতামত উপেক্ষা করা হলে দেশে নতুন করে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।

বিজ্ঞাপন

শনিবার সকালে নগরীর সাফা আর্কেড কমিউনিটি সেন্টারে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা জামায়াত আয়োজিত রুকন সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি অভিযোগ করেন, জনগণ দীর্ঘদিনের সংকট, অনিয়ম, দুর্নীতি এবং গণতান্ত্রিক অধিকার হরণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে যে রায় দিয়েছে, সেটি দ্রুত ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা এখন সময়ের দাবি। কিন্তু এই প্রক্রিয়ায় যদি অযথা বিলম্ব করা হয় বা রাজনৈতিক কৌশলের আশ্রয় নেওয়া হয়, তাহলে জনমনে ক্ষোভ আরও বাড়বে।

এটিএম মাসুম বলেন, জনগণের প্রত্যাশা এখন শুধু প্রতিশ্রুতিতে সীমাবদ্ধ নয়। তারা বাস্তব পরিবর্তন দেখতে চায়। বিশেষ কর ভোটাধিকার, সুশাসন, আইনের শাসন এবং জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার বিষয়ে জনগণের দাবি ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। জনগণের রায়কে দুর্বল করার বা উপেক্ষা করার যেকোনো চেষ্টা জনগণ ভালোভাবে নেবে না। কারণ ইতিহাসে দেখা গেছে, যখন মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার বারবার বাধাগ্রস্ত হয়েছে, তখনই জনরোষ বিস্ফোরিত হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, আমরা যে আন্দোলন শুরু করেছি, তা কোনো ব্যক্তি, দল বা ক্ষমতার স্বার্থে নয়। এটি মানুষের অধিকার, ন্যায়বিচার, স্বাধীনতা এবং সত্য প্রতিষ্ঠার আন্দোলন। এই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য হলো মানুষের মুক্তি, সমাজে ন্যায় প্রতিষ্ঠা এবং এমন একটি রাষ্ট্র ও সমাজ গঠন করা, যেখানে জুলুম, অবিচার, বৈষম্য ও দমন-পীড়নের কোনো স্থান থাকবে না।

তিনি বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, পৃথিবীতে শান্তি ও ন্যায় প্রতিষ্ঠা করা শুধু মানবিক দায়িত্ব নয়, এটি মহান আল্লাহর কাছেও একটি উত্তম আমল। আল্লাহ তাআলা মানুষকে সৃষ্টি করেছেন মর্যাদা দিয়ে, আর সেই মর্যাদা রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব। তাই অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলা, মজলুমের পাশে দাঁড়ানো এবং সত্য প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়া ঈমানি চেতনারই অংশ।

সম্মেলনের প্রধান বক্তা জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ শাহজাহান বলেন, সংগঠনকে আরও শক্তিশালী, শৃঙ্খলাবদ্ধ এবং আদর্শভিত্তিক করতে রুকনদের (সদস্যদের) আদর্শ সংগঠক হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। একটি সুসংগঠিত ও লক্ষ্যভিত্তিক আন্দোলন বা সংগঠন টিকিয়ে রাখতে হলে সদস্যদের মধ্যে নৈতিকতা, শৃঙ্খলা এবং দায়িত্ববোধ থাকা অপরিহার্য।

বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহাজাহান চৌধুরী। চট্টগ্রাম উত্তর জেলা জামায়াতের আমির আলা উদ্দীন সিকদারের সভাপতিত্বে সমাবেশ পরিচালনা করেন জেলা সেক্রেটারি আব্দুল জব্বার।

এছাড়া বক্তব্য দেন ফেনী জেলার সাবেক আমির ও কুমিল্লা অঞ্চলের টিম সদস্য অধ্যাপক লিয়াকত আলী ভূঁইয়া। সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জেলা সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক ফজলুল করিম, সাংগঠনিক সেক্রেটারি আনোয়ার ছিদ্দিক চৌধুরী, বায়তুলমাল সেক্রেটারি ড. আব্দুল হামিদ চৌধুরী প্রমুখ।

এমই

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন