আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

ছিনতাইকারীর রামদার কাছে পরাস্ত পুলিশ-ফায়ার সার্ভিস

চট্টগ্রামে পাঁচ ঘণ্টা ধরে চোর-পুলিশ খেলা, উৎসুক জনতার ভিড়

চট্টগ্রাম ব্যুরো

চট্টগ্রামে পাঁচ ঘণ্টা ধরে চোর-পুলিশ খেলা, উৎসুক জনতার ভিড়

চট্টগ্রামের হালিশহরে মাদক ব্যবসায়ী ও ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করতে গিয়ে বেকায়দায় পড়তে হয়েছে পুলিশকে। দুপুর ১২টা থেকে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ধরে একজন ছিনতাইকারীকে কাদা থেকে উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস। এ ঘটনায় ওই এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

শুক্রবার দুপুর ১২টায় নগরীর হালিশহরের বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার স্কাইভিউ টাওয়ার সংলগ্ন ডোবায় এ ঘটনা ঘটে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ওই ছিনতাইকারী একটি রামদা হাতে পুলিশকে ভয় দেখিয়ে গ্রেপ্তার এড়িয়ে থাকতে সক্ষম হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার দুপুরে স্থানীয় চিহ্নিত ছিনতাইকারী মো. রুবেলকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালায় হালিশহর থানা পুলিশ। এসময় তাকে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি দোকান থেকে তাড়া করে দৌড়াতে থাকে পুলিশের সদস্যরা। এসময় ছিনতাইকারী রুবেল একটি ভবনের উপরে ওঠে যায়। কিন্তু হঠাৎ করে ওই ছিনতাইকারী একটি ডোবায় লাফ দিলে মাটিতে তার শরীর আটকে যায়। পরে তাকে বারবার বললেও কাদাতেই গড়াগড়ি করে সে। এই অবস্থায় ঘটনাটি দেখতে স্থানীয় উৎসুক জনতার ভিড় লেগেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা দেলোয়ার মজুমদার জানান, রুবেল যখন কাদায় আটকে পড়ে তখন তার স্ত্রী এসে একটি ছাতার আড়ালে একটি ধারালো রামদা দিয়ে যায় তাকে। কিন্তু পুলিশ উপস্থিত থেকেও বিষয়টি টের পায়নি। পরে ছাতা খুলতেই রুবেল রামদা হাতে সবাইকে ভয় দেখাতে থাকে এবং গালিগালাজ শুরু করে। এতে পুলিশ সদস্যরা তাকে গ্রেপ্তারে সামনের দিকে যেতে পারছে না। তা ছাড়া কাদায় যেকেউ নামলেই শরীর ডুবে যাচ্ছে। কেউ এগোলেই তাকে রামদা দিয়ে কোপানোর ভয় প্রদর্শন করছে ছিনতােইকারী রুবেল। একপর্যায়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট এসেও নানা উপায় অবলম্বন করেও তাকে উদ্ধার করা যায়নি।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রুবেল ও তার পরিবারের সদস্যরা মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত। তারা হালিশহরের বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় ফকিরগলিতে বসবাস করে। এর আগে অস্ত্র নিয়ে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিল রুবেল। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। হরহামেশা স্থানীয়দের ছুরিকাঘাত করে থাকে সে। ছিনতাইকারী রুবেল ওই এলাকার আবু সৈয়দ ড্রাইভারের ছেলে।

এ বিষয়ে হালিশহর থানার ওসি কাজী মুহাম্মদ সুলতান আহসান উদ্দিন জানান, রুবেলের বিরুদ্ধে একাধিক ডাকাতি, চুরির মামলা রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারে গেলে সে লাফ দিয়ে ডোবার কাদায় পড়ে। সেখানে ভবনের পাইলিংয়ে কাজ চলছিল। তাকে অনেকবার বুঝানোর পরও সে কাদা থেকে উঠেছে না। কাছে যেতেই রামদা দিয়ে ভয় দেখাচ্ছে। আমরা ধারণা করছি তাকে গ্রেপ্তার করলে সে নিজেকে আহত করতে পারে। গ্রেপ্তার সম্ভব না হলে পরে আবার অভিযান করব।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...