কুমিল্লায় ভেরিফিকেশনে বাদ পড়লেন ৭৭ প্রাথমিক শিক্ষক

কুমিল্লায় ভেরিফিকেশনে বাদ পড়লেন ৭৭ প্রাথমিক শিক্ষক
বাদ পড়া কয়েকজন প্রার্থী সঙ্গে কথা বলছেন আমার দেশের এম হাসান

কুমিল্লায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে ৫০৮ জন প্রার্থীকে চূড়ান্তভাবে সুপারিশ করা হলেও কাগজপত্র জমা দিয়েছিলেন ৪৭৭ জন। তাদের মধ্যে ৪০০ জনকে নিয়োগ দেওয়া হলেও ভেরিফেকেশনে বাদ পড়েছেন ৭৭ প্রার্থী।

বিজ্ঞাপন

২০২৫ সালে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর ২০২৬ সালের ৯ জানুয়ারি লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় এবং ২১ জানুয়ারি মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হয়। পরবর্তীতে ৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্তভাবে প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক পদে প্রাক-নির্বাচন ও সুপারিশ প্রদান করা হয়।

সাধারণত শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রার্থীর বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা, নিষিদ্ধ কোনো রাজনৈতিক বা উগ্রবাদী সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততা, ফৌজদারি মামলা, সনদপত্রের বৈধতা এবং স্বাস্থ্য সনদসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহ বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করা হয়।

তবে নিয়োগ থেকে বাদ পড়া কয়েকজন প্রার্থী দাবি করেছেন, তারা নিয়োগের সব শর্ত পূরণ করলেও শেষ মুহূর্তে অহেতুক বাদ দেওয়া হয়েছে।

চান্দিনা উপজেলার বাদ পড়া প্রার্থী মো. মাসুম বিল্লাহ বলেন, ‘আমরা কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলাম না। সব শর্ত পূরণ করার পরও কেন বাদ দেওয়া হলো তা বুঝতে পারছি না।’

একই আক্ষেপ প্রকাশ করে নাঙ্গলকোট উপজেলার প্রার্থী তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘কী কারণে আমার নিয়োগ বাতিল হয়েছে, তা জানতে চাইলে জেলা শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তারা স্পষ্ট করে কিছু বলেননি। তারা জানিয়েছেন যে এ বিষয়ে তাদের কাছে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক প্রার্থী আক্ষেপ করে বলেন, ‘আমি কোনো রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নই এবং সব শর্ত যথাযথভাবে পূরণ করেছি। তবু নিয়োগ আটকে যাওয়ায় চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছি।’

বাদ পড়া মাসুম বিল্লাহর বাবা মো. দিদার হোসেন, যিনি দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে ইমামতি করে আসছেন, কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘অনেক কষ্ট করে তিন ছেলেকে লেখাপড়া করিয়েছি। আমার ছেলেরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছে। মাসুম চূড়ান্ত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরও চাকরিটা না হওয়ায় আমরা নিঃস্ব হতে বসেছি। আমি কোনো রাজনীতি করি না, আমার ছেলের সাথে অন্যায় করা হলো।’

এ বিষয়ে জানতে কুমিল্লা জেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মোতাহার বিল্লাহর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি এ ব্যাপারে কোনো তথ্য দিতে পারব না। আমাদের জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মনসুর আলী চৌধুরী চট্টগ্রামে মিটিংয়ে আছেন।

পরবর্তীতে মুঠোফোনে কুমিল্লা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মনসুর আলী চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, কুমিল্লা জেলা থেকে মোট ৫০৮ জনকে সুপারিশ করা হয়েছিল। তাদের মধ্যে ৪৭৭ জন নির্ধারিত সময়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেন। আমরা সেখান থেকে ৪০০ জনকে চূড়ান্ত নিয়োগ দিয়েছি। বাকি ৭৭ জনের আবেদন বিভিন্ন সংস্থার প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে বাতিল হয়েছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন