বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির বলেছেন, নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় একটি কথিত ধর্ষণ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ‘মিথ্যা ন্যারেটিভ’ তৈরি করে প্রপাগান্ডা চালিয়েছে এনসিপি। এছাড়া তিনি বলেন, হাতিয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এনসিপির নেতারা জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অপচেষ্টা করেছে।
সোমবার রাত সাড়ে ৮টায় নোয়াখালী প্রেসক্লাব মিলনায়তনে জেলায় কর্মরত সাংবাদিকদের সঙ্গে ঈদ-পরবর্তী শুভেচ্ছা বিনিময়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে এসব মন্তব্য করেন তিনি।
নাসির উদ্দিন নাসির বলেন, বিশেষ করে এনসিপির শীর্ষ নেতারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যাচাই-বাছাই ছাড়াই ভুয়া তথ্য প্রচার করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার অপচেষ্টা চালিয়েছেন। যদি তদন্তে প্রমাণিত হয় যে এ ঘটনা সাজানো বা অতিরঞ্জিত, তাহলে মিথ্যা তথ্য ছড়ানো এবং জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির দায়ে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে মামলা করা হবে। কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। মানবিক কোনো ইস্যু নিয়ে রাজনীতি করা অনৈতিক। প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের আগে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো সমাজে অস্থিরতা তৈরি করে। আমরা চাই সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সত্য প্রকাশিত হোক।
ষড়যন্ত্রমূলকভাবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের নাম ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ছাত্রদল সাধারণ সম্পাদক নাছির। তিনি বলেন, হাদি হত্যার মতো একটি স্পর্শকাতর বিষয়কে কেন্দ্র করে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে। বিশেষ করে জামায়াত-শিবির ও এনসিপি-সংশ্লিষ্ট কিছু ব্যক্তি এ ঘটনাকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের চেষ্টা করছে, যা অত্যন্ত নিন্দনীয়।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, হাদি হত্যার পরপরই প্রকৃত অপরাধীদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও বিএনপির অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা সোচ্চার ছিলেন, সেখানে জামায়াত-শিবির এনসিপির দৃশ্যমান কোনো ভূমিকা ছিল না। বরং এখন তারা নিজেদের স্বার্থে বিষয়টি বিকৃতভাবে উপস্থাপন করছে। রাজনৈতিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়া দলগুলো বিএনপির সিনিয়র নেতা মির্জা আব্বাসের নাম জড়িয়ে অপপ্রচার চালিয়েছে। এটি শুধু রাজনৈতিক অসততা নয়, বরং একটি হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়াকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টা।
নাছির উদ্দীন নাছির বলেন, আমরা পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, হাদি হত্যার বিচার অবশ্যই হতে হবে এবং প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে হবে। কিন্তু এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক নাটক মঞ্চস্থ করার যে প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, তা বন্ধ করতে হবে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আর যদি কোনো রাজনৈতিক দল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা তথ্য ছড়ায় বা বিএনপির নেতাদের নাম জড়িয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ সময় সংবাদিকেরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে নোয়াখালীর বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনা তুলে ধরার জন্য ছাত্রদল সেক্রেটারি নাসিরের প্রতি অনুরোধ জানান। ছাত্রদল সেক্রেটারি নোয়াখালীর উন্নয়ন ও বিরাজমান সমস্যাগুলো প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরবেন বলে সাংবাদিকদের আশ্বস্ত করেন।
সভায় উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালী জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এবং নোয়াখালী জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট এ বি এম জাকারিয়া, জেলা বিএনপির সদস্য রবিউল হাসান পলাশ, জেলা বিএনপির সদস্য আবদুল মোতালেব আপেল, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজান প্রমুখ।
সভায় উপস্থিত সাংবাদিকদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন— ডা. মো. বোরহান উদ্দিন, লিয়াকত আলী খান, শামসুল হাসান মিরন, নাসির উদ্দিন বাদল, আমিরুল ইসলাম হারুন, মাসুদ পারভেজ, সাইফুল্লাহ কামরুল, আজাদ ভূঁইয়া, আকবর হোসেন সোহাগ, তাজুল ইসলাম মানিক, আব্দুর রহিম বাবুল, সাজ্জাদ হোসেন, কামরুল কানন, নাসিম শুভ সহ আরও অনেকে। সভায় সঞ্চালনা করেন সাংবাদিক শাহাদাত বাবু।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

