কক্সবাজারের সীমান্ত উপজেলা টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য জামাল উদ্দিনকে অস্ত্রের মুখে অপহরণ করে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। আহত জামাল উদ্দিন (৪০) হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সোমবার রাত ৯টার দিকে হ্নীলা আল-ফালাহ একাডেমি স্কুলের সামনে চা পান করছিলেন জামাল উদ্দিন। এ সময় একটি সিএনজি অটোরিকশায় করে আসা ৫ থেকে ৭ জন মুখোশধারী অস্ত্রধারী তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, অপহরণের কিছুক্ষণ পর কয়েক রাউন্ড গুলির শব্দ শোনা যায়। পরে সিএনজি অটোরিকশাটিকে হ্নীলা দরগাহ এলাকার পশ্চিম দিকে যেতে দেখা যায়।
অভিযোগ রয়েছে, ওই এলাকায় পাহাড়ি সন্ত্রাসী ও ডাকাত আনোয়ার হোসেন ওরফে ‘লেড়াইয়া’র নেতৃত্বাধীন একটি সশস্ত্র দল জামাল উদ্দিনকে মারধর করে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার দুই পায়ে গুরুতর আঘাত করে। পরে তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় ফেলে রেখে যায় তারা। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেন। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এদিকে, নুর কামাল নামে এক ব্যক্তি তার ফেসবুক পোস্টে দাবি করেন, জামাল উদ্দিনকে হত্যার উদ্দেশ্যেই অস্ত্রের মুখে অপহরণ করা হয়েছিল। তার দাবি, সোমবার রাত আনুমানিক ৯টা ১০ মিনিটে হ্নীলা আল-ফালাহ একাডেমি স্কুলের সামনে থেকে কয়েকজন দুর্বৃত্ত জামাল উদ্দিনকে তুলে নিয়ে যায়। পরে তাকে বেধড়ক মারধর করে হ্নীলা মেমোরিয়াল কলেজের পাশে ফেলে রেখে যায়।
নুর কামাল আরো দাবি করেন, স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় জামাল উদ্দিনকে উদ্ধার করে উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজারে পাঠান। অল্পের জন্য তিনি প্রাণে বেঁচে গেছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। একই সঙ্গে ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
স্থানীয় সূত্রগুলোর অভিযোগ, টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নে একটি সংঘবদ্ধ চক্র পাহাড় ও রোহিঙ্গা ক্যাম্পসংলগ্ন এলাকায় আস্তানা গড়ে মাদক কারবার, অপহরণ, ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে। স্থানীয়দের দাবি, ওই চক্রের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় নানা অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে টেকনাফ মডেল থানার ওসি বলেন, জামাল উদ্দিনকে মারধরের বিষয়টি তিনি শুনেছেন। ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর এলাকায় আলোচিত ডাকাত ও মাদক কারবারি হিসেবে পরিচিত আনোয়ার ডাকাত একটি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য, রঙ্গিখালী এলাকার বাসিন্দা জামাল মেম্বারের ছেলে এবং কথিত মাদক কারবারি শাহ আজম সরকারকে হত্যার হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ওই ঘটনার পর নিরাপত্তাজনিত কারণে শাহ আজম সরকার বর্তমানে চট্টগ্রামে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।
জেডএম
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

