বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত জারি থাকায় চট্টগ্রামের দ্বীপ উপজেলা সন্দ্বীপের সঙ্গে দেশের মূল ভূখণ্ডের নৌযোগাযোগ টানা চার দিন ধরে বন্ধ রয়েছে। ফেরি, লঞ্চ ও স্টিমারসহ সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন হাজারো যাত্রী, প্রবাসী, ব্যবসায়ী ও পরিবহন শ্রমিক।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) চট্টগ্রাম অফিস জানায়, গত বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বিধিনিষেধ দেওয়ার পর কার্যত শুক্রবার থেকে আজ সোমবার পর্যন্ত টানা চার দিন ধরে সন্দ্বীপে সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ।
বিআইডব্লিউটিএ-এর উপ-পরিচালক নয়নশীল গণমাধ্যমকে বলেন, সমুদ্রে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত বহাল থাকায় নিরাপত্তার স্বার্থে সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।" এই অচলাবস্থায় ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ মূল ভূখণ্ডের সাথে যাতায়াতকারী জরুরি চিকিৎসা, চাকরি ও ব্যবসার প্রয়োজনে বের হওয়া মানুষ চরম বিপাকে পড়েছেন। কর্মদিবসের শুরুতে অনেক সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী সময়মতো কর্মস্থলে যোগ দিতে পারেননি।
সবচেয়ে বেশি সংকট তৈরি হয়েছে গুপ্তছড়া-কুমিরা ও বাঁশবাড়িয়া নৌরুটে। গুপ্তছড়া ফেরিঘাটে এবং কুমিরার বাঁশবাড়িয়া ঘাটে সন্দ্বীপগামী শতাধিক পণ্যবাহী ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও যাত্রীবাহী যানবাহন আটকে আছে। যানবাহনে থাকা কাঁচামাল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্য নষ্ট হওয়ার উপক্রম হওয়ায় বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকিতে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা।
ঘাটে আটকে থাকা যাত্রী ও চালকদের দুর্ভোগ এখন চরমে। বিশেষ করে গুপ্তছড়া ঘাটে পর্যাপ্ত হোটেল-রেস্তোরাঁ, বিশুদ্ধ খাবার পানি, বিশ্রামাগার ও ওয়াশরুম না থাকায় নারী, শিশু ও বয়োবৃদ্ধরা মানবেতর পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন। এই সংকটময় পরিস্থিতিতে ভুক্তভোগীরা স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জরুরি ত্রাণ, খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও নিরাপদ আশ্রয়ের জোরালো দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, আজ সাগর বেশ উত্তাল এবং সন্দ্বীপ উপকূলে ভারী থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত হচ্ছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, এই নিম্নচাপের প্রভাব ও সমুদ্রের উত্তাল পরিস্থিতি আরও কয়েক দিন স্থায়ী হতে পারে। ফলে চট্টগ্রাম উপকূলীয় এলাকায় আগামী আরও কয়েক দিন ভারী বৃষ্টিপাত ও এই বৈরী আবহাওয়া অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

