মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে ট্রলারডুবি, নিখোঁজ ৫ পরিবারে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা

উপজেলা প্রতিনিধি, বাঁশখালী (চট্টগ্রাম)

মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে ট্রলারডুবি, নিখোঁজ ৫ পরিবারে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা

সাগরপথে মালয়েশিয়াগামী একটি যাত্রীবাহী ট্রলার আন্দামান সাগরে ডুবে যাওয়ার ঘটনায় চট্টগ্রামের বাঁশখালীর অন্তত ৫ যুবক নিখোঁজ রয়েছেন। এ ঘটনায় তাদের স্বজনদের মাঝে চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।

নিখোঁজরা সবাই উপজেলার পুঁইছড়ি ইউনিয়নের পূর্ব পুঁইছড়ি গ্রামের বাসিন্দা। তারা হলেন—মো. রুবেল (৩৩), মো. ওসমান গণী (১৮), মো. বেলাল উদ্দিন (২৫), আজিজ (২৮) এবং জামাল উদ্দিন ওরফে মানিক (২৩)।

বিজ্ঞাপন

স্বজনদের অভিযোগ, দালাল চক্র বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে তাদের মালয়েশিয়ায় পাঠানোর নামে ঝুঁকিপূর্ণ এ যাত্রায় পাঠায়। নিখোঁজ মানিকের পিতা মকছুদ আহমদ বলেন, কাজের আশ্বাস দিয়ে তার ছেলেকে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে জানতে পারেন ট্রলারটি সাগরে ডুবে গেছে, কিন্তু এখনো ছেলের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড সূত্রে জানা গেছে, গত ৯ এপ্রিল আন্দামান দ্বীপপুঞ্জের নিকটবর্তী গভীর সমুদ্রে একটি নৌযান বিপদগ্রস্ত অবস্থায় শনাক্ত করা হয়। পরবর্তীতে অভিযান চালিয়ে প্রথমে ৯ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। পরে ‘এমটি মেঘনা প্রাইড’ নামের একটি বাংলাদেশি জাহাজ তাদের উদ্ধার করে কোস্ট গার্ডের কাছে হস্তান্তর করে।

টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম জানান, সাগর থেকে উদ্ধার হওয়া ৯ জনকে থানায় আনা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে দালালদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং ভুক্তভোগীদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ট্রলারে মোট কতজন যাত্রী ছিলেন তার সুনির্দিষ্ট তালিকা পাওয়া যায়নি। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দালাল চক্রের মাধ্যমে অবৈধভাবে মালয়েশিয়া যাওয়ার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. আরিফুল ইসলাম জানান, পূর্ব পুঁইছড়ি গ্রামের অন্তত ৫ জন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে, ইউনিয়নের আরও ১০-১৫ জন ওই ট্রলারে ছিলেন। এতে করে পুরো এলাকায় উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ এপ্রিল কক্সবাজারের ইনানী, টেকনাফসহ বিভিন্ন এলাকা এবং বাঁশখালী থেকে যাত্রীদের ছোট নৌকায় করে গভীর সমুদ্রে থাকা একটি বড় ট্রলারে তোলা হয়। পরে প্রায় আড়াই শতাধিক যাত্রী নিয়ে ট্রলারটি মালয়েশিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। কয়েকদিন পর আন্দামান দ্বীপপুঞ্জের কাছাকাছি পৌঁছালে বৈরী আবহাওয়ার কবলে পড়ে ট্রলারটি ডুবে যায়।

বেঁচে ফেরা একাধিক যাত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, ট্রলারে নারী-শিশুসহ প্রায় ২৮০ জন যাত্রী ছিলেন। দুর্ঘটনার পর তারা পানির বোতল ও তেলের ট্যাংকি ধরে টানা দুই দিন সাগরে ভাসতে থাকেন। পরে একটি বাংলাদেশি জাহাজ তাদের উদ্ধার করে কোস্ট গার্ডের কাছে হস্তান্তর করে। তবে বাকি যাত্রীদের ভাগ্যে কী ঘটেছে, তা নিয়ে গভীর শঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।

কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা সাব্বির আলম সুজন এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান, চট্টগ্রাম থেকে ইন্দোনেশিয়াগামী বাংলাদেশি পতাকাবাহী জাহাজ ‘এমটি মেঘনা প্রাইড’ ৯ এপ্রিল আন্দামান দ্বীপপুঞ্জের কাছে দুর্ঘটনার বিষয়টি জানতে পেরে অভিযান চালায় এবং গভীর সমুদ্রে ভাসমান অবস্থায় ৯ জনকে উদ্ধার করে টহল জাহাজ ‘মনসুর আলী’-তে স্থানান্তর করে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মানবপাচার চক্র দমনে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে এ ধরনের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করা কঠিন হয়ে পড়বে

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...