গৃহপরিচারিকাকে নির্যাতনের অভিযোগে চিকিৎসক দম্পতি গ্রেপ্তার

জেলা প্রতিনিধি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া

গৃহপরিচারিকাকে নির্যাতনের অভিযোগে চিকিৎসক দম্পতি গ্রেপ্তার

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১০ বছর বয়সী গৃহপরিচারিকা আয়েশা আক্তারকে নির্যাতনের অভিযোগে এক চিকিৎসক দম্পতিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের উত্তর মৌড়াইল এলাকা থেকে ডাক্তার নোমান ও তার স্ত্রী ডাক্তার কিমিয়া সাদাত তোফাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে বিকেলে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ সময় তাদের সঙ্গে দুই মাস বয়সী শিশুসন্তানও ছিল।

বিজ্ঞাপন

নির্যাতিত আয়েশা আক্তার জেলার সরাইল উপজেলা-এর পাকশিমুল গ্রামের রাকিব মিয়া ও নারগিছ বেগমের মেয়ে। বুধবার সন্ধ্যায় তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতাল-এ ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের মতে, তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

পরিবারের অভিযোগ, প্রায় ৯ মাস আগে আয়েশাকে কাজের জন্য ওই চিকিৎসক দম্পতির বাসায় দেওয়া হয়। গত তিন মাস ধরে পরিবারের সঙ্গে তার যোগাযোগ বন্ধ ছিল। সম্প্রতি দম্পতি আয়েশার পরিবারকে জানান, সে নাকি বাসা থেকে চুরি করে পালিয়ে গেছে।

এ ঘটনায় কোনো খোঁজ না পেয়ে গত ২৬ এপ্রিল সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন আয়েশার পরিবার। এর প্রেক্ষিতে বুধবার সকালে পুলিশ পাশের একটি বাড়ি থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে। পরে তার শরীরে নির্যাতনের চিহ্ন দেখতে পেয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

অভিযোগের বিষয়ে চিকিৎসক নোমান দাবি করেন, তার স্ত্রী গর্ভবতী থাকায় সন্তানদের দেখাশোনার জন্য আয়েশাকে বাসায় রাখা হয়েছিল। তিনি বলেন, “গত ২২ এপ্রিল আয়েশা ঘর থেকে দুই ভরি স্বর্ণ ও ৭০ হাজার টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়। আমি তখন প্রশিক্ষণের জন্য ফিলিপাইনে ছিলাম। ফিরে এসে থানায় অভিযোগ করেছি।”

তিনি আরো দাবি করেন, চুরির ঘটনাকে আড়াল করতেই তাদের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম জানান, আয়েশার বাবা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। “মামলার ভিত্তিতে চিকিৎসক দম্পতিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।’’

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন