টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার সড়ক যোগাযোগব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আওতাধীন ৬১ সড়কের বিভিন্ন অংশ ধসে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় ৪৭ কিলোমিটার সড়ক, ছয়টি কালভার্ট ও একটি পানি নিষ্কাশন কাঠামো। এলজিইডির প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী এসব অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ ও চলাচল উপযোগী করতে অন্তত ৩০ কোটি টাকা প্রয়োজন হবে।
এলজিইডির প্রকৌশলীরা সরেজমিন পরিদর্শনের পর প্রস্তুত করা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন, কেঁওচিয়া, এওচিয়া, চরতী, ছদাহা, বাজালিয়া, কালিয়াইশ, কাঞ্চনা, ঢেমশা, সোনাকানিয়া ও নলুয়াসহ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক বন্যার তীব্র স্রোতে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোথাও কার্পেটিং উঠে গেছে, কোথাও সড়কের বাঁধ ভেঙে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। একাধিক স্থানে সড়কের ঢাল ধসে পড়া এবং মাটি সরে যাওয়ায় যান চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের মধ্যে রয়েছে গাটিয়াডেঙ্গা-দেওদীঘি-মির্জাখীল, চরতী-খোদারহাট-বাজালিয়া-বোমাংহাট, উপজেলা সদর-কেরানীহাট, ফুলতলা-খোদারহাট, চরতী দারুস সালাম মার্কেট-সাঙ্গুঘাট, এওচিয়া-পুকুরিয়া বাজার, ছদাহা-দস্তিদারহাট, কাঞ্চনা-চানপুর, কালিয়াইশ-মাস্টারহাট, মিঠাদীঘি-ছদাহা ও ফকির-মিঠাদীঘি সড়ক। এসব সড়কের বিভিন্ন অংশে জরুরি ভিত্তিতে সংস্কার প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
নলুয়ার বাসিন্দা দিদারুল ইসলাম বলেন, দুরদুরী-খোদারহাট মৌলভীর দোকান সড়কের একটি বড় অংশ ভেঙে যাওয়ায় যানবাহন চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। প্রতিদিন হাজারো মানুষ চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। পূর্ব গাটিয়াডেঙ্গার বাসিন্দা রাশেদুল কবির বলেন, কেরানীহাট-হাঙ্গরমুখ সড়কের কার্তিকের দোকান এলাকায় পানির স্রোতে বিশাল গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এখন মানুষ নিরাপদে হেঁটে চলাচল করতে পারছে না।
সড়কগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। কৃষকরা উৎপাদিত ফসল বাজারে নিতে হিমশিম খাচ্ছেন। শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ বিকল্প পথ ব্যবহার করে স্কুল-কলেজে যেতে হচ্ছে। অসুস্থ রোগীদের হাসপাতালে নিতে বিলম্ব হচ্ছে। অনেক এলাকায় সিএনজি অটোরিকশা, পিকআপ ও অন্যান্য ছোট যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় দৈনন্দিন জীবনযাত্রা এবং ব্যবসা-বাণিজ্য মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
সাতকানিয়া উপজেলা প্রকৌশলী সবুজ কুমার দে বলেন, ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। জরুরি বরাদ্দ পাওয়া গেলে প্রথমে গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো সচল করা হবে। পরে পর্যায়ক্রমে স্থায়ী পুনর্নির্মাণ ও পুনর্বাসনের কাজ বাস্তবায়ন করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার মাহমুদুল হাসান বলেন, উপজেলা প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলোর বিষয়ে সার্বক্ষণিক নজরদারি করছে। জনগণের দুর্ভোগ কমাতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ শাহজাহান চৌধুরী ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও জনপদের মানুষের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেন। তিনি বলেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ কমাতে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

